বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নায্য দাবি তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে নিজের অবস্থান বদল করে সায় দিতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূল কংগ্রেসের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ওই সূত্রের মন্তব্য ‘যেভাবে অনুপ্রবেশ ইসুতে মোদীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি, তার ফল মিলেছে নির্বাচনে। শরণার্থীর ভোটের অনেকটাই চলে গেছে তৃণমূলের পক্ষে। সেই সময় মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ আমার ভাই। তাদের পাশে আমি থাকব না তো অন্য কেউ থাকবে? এর কারণে বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষও খুশি হয়েছেন। এখন তিস্তা ইস্যু নিয়ে বিরোধিতা করলে মানুষ বিষয়টি অন্যভাবে নিতে পারে।
তিনি আরো বলেন, তাছাড়া বাংলাদেশকে তিস্তার পানি না দেয়াটা মমতার উদ্দেশ্য নয়। তার উদ্দেশ্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বার্থ যাতে বিঘ্নিত না হয়। মমতা চেয়েছিলেন তিস্তায় পানির প্রবাহ বাড়ানোর ব্যবস্থা করে বাংলাদেশকে তিস্তার পানি দেয়া হোক। তাই এনিয়ে তিনি ড. কল্যাণ রুদ্রকে দিয়ে তিস্তার পানি প্রবাহ নিয়ে গবেষণা করিয়েছেন। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে তিস্তার পানির অর্ধেক অনায়াসেই দেয়া যায়। কিন্তু তার পরও মমতা তিস্তা নিয়ে সমাধানের পথে যাননি। তার কারণ হলো পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ না পাওয়া। মমতার দাবি ছিল, পশ্চিমবঙ্গকে ৩ বছরের জন্য ২০ হাজার কোটি রুপি করে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ দিতে হবে। কিন্তু ইউপিএ সরকার তাতে সম্মত হয়নি।
বিজেপি সূত্রে খবর, মমতার এই দাবি মেনে নেয়া হবে। এই ইঙ্গিত বিজেপির সভাপতি রাজনাথ সিংও দিয়েছেন। ফলে মমতাও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ পাওয়া গেলে বাংলাদেশের দাবিতে সহমত হবে তৃণমূল কংগ্রেস।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে মমতা ব্যানার্জির আসার কথা থাকলেও তিনি তিস্তা চুক্তি নিয়ে অসন্তোসের কারণে আসেননি। ফলে তিস্তা চুক্তি সেই সময় হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি।
কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শীতলতা কাটতে চলেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে খবর, আগামী নভেম্বর নাগাদ এই চুক্তি হতে পারে। তার আগে এসংক্রান্ত যা জটিলতা আছে, তা কাটানোর প্রক্রিয়া চলবে।
