বনানীর ১৭/এ নং রোড ধরে হেঁটে যেতে যেতে সামনে পড়বে বাংলা সিনেমার পোস্টার সদৃশ এক সাইনবোর্ড! চাপ সামলাও! কী হয় এখানে? বাইরে থেকেই দেখা গেল লোকজনের ভিড়। একটু ভেতরে তাকিয়েই দেখি একদল তরুণের আড্ডায় মুখর পুরোটা। সিনেমার পেইন্টিংওয়ালা দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে সমানে চলছে নিজেই নিজের ছবি তোলার চর্চা—‘সেলফি!’ আর কেনইবা এখানে এই আড্ডা আয়োজন? নানা স্বাদের চাপ, লেমোনেড আর দুধেল এক কাপ চায়ের টানেই জমে এখানে আড্ডা! ঘুরে দেখতে হাজির হয়েছিলেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
থিমটা অনেক মজার বটেই। এই জগতে সবচেয়ে বেশি চাপে থাকে কারা? বাংলা সিনেমার নায়কেরা! তাদেরকে রিকশা চালিয়ে ধনী হয়ে বড়লোকের মেয়ের মন জোগাতে হয়! এমনি এক পরিস্থিতিতে চাপ সামলাও তাই নজর দিল বাংলা সিনেমাতেই। সারাদিন চলছে নানান ধাঁচের গান, ষাটের সত্তরের দশকের বাংলা গানগুলোও দিব্যি চলছে এখানে। দেয়ালজুড়ে চোখে পড়বে চাপের কত্ত বাহারি সব ছবি। অর্ডার করে বসে থাকার সময়ে দিব্যি ছোট্ট ইন্টেরিয়রের চারপাশটা দেখতে দেখতেই সময় কেটে যায়। এবার আসুন তো জানিয়ে দিই এখানে কী কী খাবার আছে! ঝামেলায় না গিয়ে চলে যেতে পারেন সেট মেন্যুতে। বিফ চাপ, চিকেন চাপ, ফিশ চাপ, বিফ বটি, চিকেন বটি, চিকেন ফ্রাই! এগুলোর সবগুলোর সাথে দুই পিস লুচি, সালাদ, কোল্ড ড্রিংকস, অথবা হতে পারে লেমোনেড আর চা! দামটা শুরু ২৩৫ থেকে। রূপচাঁদার চাপ খেতে চাইলে ফিশ চাপের অর্ডার করুন! ৩৩৫ টাকা গুনতে হবে সে ক্ষেত্রে। এটি সর্বোচ্চ মূল্যের আইটেম। তবে মাছের চাপ বলে কথা! আর যদি একটু যাচাই বাছাই করে খেতে চান তাহলে তো সিঙ্গেল মেন্যুতে চোখ বুলাতে পারেন। এখানেও আলাদাভাবে চাপগুলো পাবেন ১৩০ টাকা থেকে শুরু করে ২২০ টাকায়। চিকেন রাই অথবা মগজ ভুনাও চেখে দেখতে পারেন। আছে খিরি আর গুরদাও! লুচিগুলো আলাদা যত খুশি অর্ডার করতে পারেন। আর সাথে লেমোনেড বা কোক, যেই ড্রিংকসই নেন না কেন, দাম পড়বে পঁচিশ টাকা মাত্র। জম্পেশ খাওয়া শেষে চা এলে রীতিমতো অবাক হবেন। মাটির ছোট্ট ভাড়ে চা। আর এত্ত ঘন দুধেল সরওয়ালা চা হয়তো এই শহরে অনেকদিনই খাননি আপনি। তাই চাইলে এবার যেতে পারেন চাপ সামলাও রেস্তোরাঁটি, আর দেখতে পারেন চাপের কত্ত বাহার আর তা সামাল দিতে প্রতিদিন বিকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত তরুণদের আনাগোনা। আসছে অনেকে সপরিবারেও। আপনিও একদিন ০১৮৩৫৬০০৫০০ নম্বরে ফোন দিয়ে চলে আসুন বন্ধুদের নিয়ে!
