রোগজীবাণু থেকে আমরা কয়জনই বা দূরে থাকতে পারি? যতই ভালো পরিবেশে থাকি আর ভালো খাবারদাবারই খাই না কেন অসুস্থ আমরা ঠিকই হই। তখন আমরা দৌড়াতে থাকি ডাক্তারের কাছে। অবশেষে পথ্য নিয়ে সুস্থ হই। কিন্তু আমরা কীভাবে রোগে আক্রান্ত হলাম তা কিন্তু চিন্তার বিষয়। এই আবিষ্কারের নেপথ্যে আছেন লুই পাস্তুর। জলাতঙ্ক ও অ্যানথ্রাক্সের প্রতিষেধকের আবিষ্কারক লুই পাস্তুরকে মাইক্রোবায়োলজির জনক বলা হয়। তিনি একজন ফরাসি অণুজীববিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ। লুই পাস্তুরই প্রথম আবিষ্কার করেন যে অণুজীব অ্যালকোহলজাতীয় পানীয়ের পচনের জন্য দায়ী। লুই পাস্তুর ১৮২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের জুরা প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বেড়ে উঠেছেন আরবোয়া শহরে। ১৮৪৭ সালে তিনি ফ্রান্সের একোল থেকে পদার্থবিদ্যা ও রসায়নে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৮৪৮ সালে দিজোঁ লিসিতে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য রসায়নের অধ্যাপক হিসেবে চাকরি করেন। সেখানেই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টরের কন্যা মারি লরেন্তের সাথে প্রণয়ে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির পাঁচ সন্তানের তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে টাইফয়েড রোগে মারা যায়। ১৮৫৪ সালে পাস্তুর স্থানীয় এক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগের ডিন হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। তখন থেকেই তিনি স্থানীয় মদের কলগুলোতে গাঁজন প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তিনি দেখান অ্যালকোহল উত্পাদন ইস্টের পরিমাণের উপর নির্ভর করে। তিনি আরও প্রমাণ করেন মদের অম্লতা ব্যাক্টেরিয়ার ক্রিয়ার জন্য ঘটে। পাস্তুর প্রথম অ্যানথ্রাক্সের ভ্যাক্সিন আবিস্কার করেন। তিনি গবেষণার মাধ্যমে বুঝতে পারেন গৃহপালিত পশুতে অ্যানথ্রাক্স ব্যাসিলির আক্রমণেই অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হয়। অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধক আবিষ্কারের পর পাস্তুর অন্যান্য রোগের প্রতিরোধের জন্য গবেষণা শুরু করেন। তিনি রোগ প্রতিরোধে অক্ষম র্যাবিস ভাইরাস উত্পাদন করেন, যা জলাতঙ্কের ভ্যাক্সিন হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। ১৮৮৫ সালে পাস্তুর প্রথম এক শিশু বালকের ওপর এই ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করেন। ছেলেটিকে জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুর কামড়িয়ে ছিল, তারপর ছেলেটির মা তাকে পাস্তুরের গবেষণাগারে নিয়ে আসেন। পাস্তুর ছেলেটিকে ভ্যাক্সিন প্রদান করেন এবং ছেলেটি সুস্থ হয়ে ওঠে। র্যাবিস ভ্যাক্সিন আবিস্কারের পরে ফ্রান্স সরকার পাস্তুর ইনস্টিটিউট স্থাপন করেন। এই ইনস্টিটিউটের পরিচালক থাকাকালীন ১৮৯৫ সালে মহান বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর মারা যান।
