আজ থেকে প্রায় দশ, বিশ বছর আগে গ্রামে প্রতি ঘণ্টায়, ঘণ্টা বাজানো হতো এতে করে মানুষ বুঝতে পারত কত ঘণ্টা বা কয়টা বাজে। সে সময় ঘড়ির এত প্রচলন ছিল না। এখন এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যারা কিনা প্রতিদিন একবার না হলেও ঘড়ি দেখেন না। তবে এই ঘড়ির ইতিহাস অনেকেরই অজানা।
জানামতে, সূর্যঘড়ি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রথম যান্ত্রিক ঘড়ি। আনুমানিক সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মিসর ও ব্যালিবনে এর উত্পত্তি। এটি আজও টিকে আছে। এতে সেকেন্ড ও মিনিটের কাটা নেই, নেই কোনো টিকটিক শব্দ। তবে সময় দেয় একদম নিখুঁত। গোলাকার চাকতিতে একটি নির্দেশক কাঁটা ও দাগ কাটা সময়ের ঘর, এ নিয়েই সূর্যঘড়ি। মাত্র ৭০০ বছর আগে লাতিন শব্দ ‘ক্লক্কা’ থেকে এসেছে ক্লক। ক্লক্কা মানে ঘণ্টি। যদিও ইতিহাসেও এই মূল্যবান আবিষ্কারটির আবিষ্কারক হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম পাওয়া যায় না। তবে সূর্যঘড়ির ব্যবহার শুরু অনেক কাল আগে থেকেই। ধারণা করা হয় মিশরীয়রাই প্রথম প্রকৃতিনির্ভর অর্থাত্ সূর্যঘড়ি নির্মাণ করেছিল আর ১৪ শতাব্দীতে এসে ইউরোপিয়ানরাই এই তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে প্রথম যান্ত্রিক ঘড়ি আবিষ্কার করে।
কিন্তু ১৪ শতকের দিকে নির্মিত ঘড়িগুলোতে শুধুমাত্র ঘণ্টা নির্দেশ করতে সক্ষম হতো, মিনিট বা সেকেন্ড নির্ণয় করতে পারত না। তাছাড়া বর্তমান ঘড়ির দুই ঘণ্টা ছিল সেই ঘড়ির হিসেবে একদিন, যার মানে একদিনে ঘড়িটি মাত্র দুবার ৩৬০ ডিগ্রি কোণে ঘুরতে পারত। তাই এই ঘড়ি দিয়ে সম্পূর্ণ নির্ভুল ও সূক্ষ্ম সময় গণনা করা যেত না।
