তারা জ্বলে মিটিমিটি!
আমরা প্রায়শই বলে থাকি মিটিমিটি তারা। কিন্তু আসলেই কি এরা এ রকম মিটিমিটি জ্বলে, নাকি এটি চোখের ভুল? আসলে এই রকম ছটা দেখার কারণ আমাদের চোখ নিজেই। আমাদের চোখ এক ধরনের কেলাসিত লেন্স দ্বারা গঠিত এবং ছয়টি দিক থেকে বিভিন্ন তন্তু দ্বারা প্রসারিত। আর এই কেলাসিত লেন্সের গঠন মোটেও স্বচ্ছ নয়। তাই দূর থেকে যখন আমাদের চোখে এই রকম কোনো আলোর বিন্দু এসে পড়ে তখন কেলাসিত লেন্সের অরিয় প্রতিফলনের ফলে আমরা এই ছয় বিন্দুর তারকা রূপ দেখি। তার ফলে বারবার আলোর উজ্জ্বলতার রদবদল ঘটে। তাই দূর থেকে আমাদের কাছে মনে হয় তারারা যেন মিটিমিটি জ্বলছে।
অক্টোপাসের আত্মরক্ষার কৌশল
সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ১০০০ মিটার নিচে যেখানে সূর্যের অতি দীর্ঘ তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের লাল আলো প্রায় পৌঁছতে পারে না বললেই চলে। এজন্য শিকারির হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রাণীরা অভিযোজিত হয়ে ধারণ করে লাল রং। কিন্তু পানি পৃষ্ঠ থেকে ৫০০-৬০০ মিটার প্রাণীদের (যেমন অক্টোপাস বা স্কুইড) তো এমন হওয়ার জো নেই। তাই তারা বেছে নিয়েছে ভিন্ন এক পদ্ধতি। এসব প্রাণীদের বেশির ভাগেরই শরীর হয় স্বচ্ছ। এই ধরনের কিছু অক্টোপাসকে ল্যাবরেটরিতে গবেষণা করলে বের হয়ে আসে কিছু অদ্ভুত তথ্য।
মানুষ কেন বামহাতি হয়?
সর্বশেষ ৭ জন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ৪ জনই বামহাতি, এরা হলেন—জেরাল্ড ফোর্ড, বুশ, ক্লিনটন ও বারাক ওবামা। আনুপাতিক সংখায় শতকরা ১০ জন লোক বামহাতি। মানুষ বামহাতি হওয়ার ব্যাপারটা আসলে পারিবারিক বা বংশগত। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক একটি জিন শনাক্ত করেন। গঠন বিকারগ্রস্ত একটি শিশুর শরীর পরীক্ষা করার সময় তারা এটি খুঁজে পান। পরে দেখা যায় বামহাতি হওয়ার পেছনে এই বিশেষ জিনটির যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তারা আরও জানান—নিউরনগুলোর পারস্পারিক যোগাযোগের সাথেও এই জিনটির সম্পর্ক আছে। বিজ্ঞানীরা এও বলেন, যে মানুষের মস্তিস্ক বেশি অসামঞ্জস্যপূর্ণ তাদের বামহাতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এখানে বলে রাখা ভালো আমাদের সবার মধ্যেই এই অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। তবে বামহাতিদের মধ্যে এটা অনেক বেশি।
আনারস-দুধ একসঙ্গে খেলে কী হয়?
সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ধারণা রয়েছে আনারস এবং দুধ একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। এতে শারীরিক সমস্যা হয়। বিশেষ করে মায়েরা তাদের সন্তানকে কখনই দুধ এবং আনারস খেতে দেন না। এমনকি লেবু ও দুধ একসঙ্গে দেওয়া হয় না। এসব ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক বাড়িতে ও হোটেলে বিভিন্ন ফল দিয়ে যেসব ডেজার্ট তৈরি হয় তাতে মওসুমি ফল হিসেবে আনারস থাকে। প্রকৃতপক্ষে এটি এক ধরনের কুসংস্কার। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
সূর্যমুখী ফুল কেন সূর্যমুখী
সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে বলেই ফুলটির এমন নামকরণ। কিন্তু কেন এই ফুলটি সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে? গাছের বৃদ্ধি ও শারীরিক কার্যকলাপের জন্য বিভিন্ন ধরনের হরমোন সাহায্য করে। এমনি একটি হরমোন হলো অক্সিন। অক্সিন হরমোন ফটোট্রপিক ক্রিয়ার জন্য দায়ী। আলোর সাথে উদ্ভিদের যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া তাই-ই হলো ফটোট্রপিক ক্রিয়া। পরিপূর্ণ সূর্যমুখী ফুল কিন্তু ঘুরে না, পূর্বদিকে মুখ করে রাখে।
সর্দি কেন হয়
সর্দির ভাইরাস কণিকাগুলো দূষিত আঙুল বা দূষিত বাতাস থেকে আমাদের নাকের ভিতর জমা হয়। অতি অল্প সংখ্যক ভাইরাস কণিকা (১-৩০) সংক্রমণের জন্য যথেষ্ট। রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হওয়ার পর ভাইরাস একটি কোষের মধ্যে সংক্রমণ হওয়া শুরু করে। এরপর সংক্রমিত কোষে নতুন ভাইরাস কণিকা উত্পাদন শুরু হয়। তখন সংক্রমিত কোষগুলোর মৃত্যু ঘটে। এভাবে নতুন কোষে ভাইরাস সংক্রমণ ঘটে এবং নতুন নতুন ভাইরাস কণিকা উত্পাদিত হয়। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং এর ফলে আমরা সর্দিতে আক্রান্ত হই।
মাইক্রোওয়েভ ওভেন কীভাবে কাজ করে?
মাইক্রোওয়েভ ওভেন দিয়ে যে খাবার গরম করা হয় তার মধ্যে পানির অংশ থাকতে হবে। পানির অণুতে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক অংশ থাকে। মাইক্রোওয়েভ ওভেন—এর ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড পানির কণাগুলোকে খুব দ্রুত দিক পরিবর্তন করাতে থাকে, যা সাধারণত প্রতি সেকেন্ডে ২৪৫০ মিলিয়ন বার কাঁপাতে সক্ষম হয়। এত দ্রুত পানির কণাগুলো কাঁপতে থাকলে এতে তাপশক্তি উত্পন্ন হয় এবং সেই শক্তি দিয়ে তা গরম হয়। আসলে খাবারের ভিতর যে পানি থাকে তাই গরম হয়। তাই যে সমস্ত খাবারে খুব কম পানি থাকে তা তুলনামূলকভাবে কম গরম হয়। কাচের গ্লাস কিংবা চিনামাটির প্লেট মাইক্রোওয়েভ ওভেন এ গরম হয় না, কেননা এগুলোর মধ্যে পানির কণা থাকে না। প্লাস্টিক ও কাগজ জাতীয় বস্তুর ভিতর দিয়ে মাইক্রোওয়েভ চলে যায় বলে গরম হয় না। সাধারণ ওভেনে বাহিরের দিকে খাবার গরম হলেও মাইক্রোওয়েভ ওভেন খাবারের ভিতরও গরম করে বলে পুরো খাবারটি গরম হয়।
গ্রন্থনা সাইফুল ইসলাম জুয়েল
