এইচএসসির প্রশ্ন ফাঁসকারীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে

আপডেট : ২৩ মে ২০১৪, ২১:৪৪
চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের শনাক্ত এবং ফাঁসের উত্স চিহ্নিত না করেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে যাচ্ছে তদন্ত কমিটি। প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে সরকারের গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা বা তাদেরকে নিয়ে কমিটি গঠনের সুপারিশ করবে কমিটি।একই সাথে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এসএসসি ও এইচএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র ছাপা এবং দিনে দুইটি পরীক্ষার সুপারিশও করতে যাচ্ছে কমিটি। প্রশ্ন ফাঁসের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ এপ্রিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার আগের দিন গত ৯ এপ্রিল ঐ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। এরপরই এ কমিটি গঠন করা হয়। এ সময়ের মধ্যেই এইচএসসির পদার্থ এবং রসায়নের প্রথম ও দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষাসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষারও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন। এক দফা সময় বাড়িয়ে নিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় পর আগামী সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে যাচ্ছে কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রধান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) সোহরাব হোসাইন জানান, আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। এক দফা সময়ও বাড়িয়ে নিয়েছিলাম। আগামী সপ্তাহেই তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জমা দেয়া হবে। তিনি বলেন, বেশিদিন ধরে পাবলিক পরীক্ষা নেয়ার দরকার নেই। কম সময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন হলে প্রশ্ন ফাঁসের ঝুঁকি কমবে। আমরা পরীক্ষাগুলো সকাল-বিকাল নেয়ার সুপারিশ করব। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে শিক্ষার্থীদের আগেই তা জানিয়ে দিতে হবে। তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা যায়নি। উদঘাটন করা যায়নি প্রশ্ন ফাঁসের উত্সও। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিটিআরসির সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাবলিক পরীক্ষার জন্য চার সেট প্রশ্ন করা হলেও বর্তমানে দুই সেট প্রশ্ন ছাপানো হয়। বাকি দুই সেট প্রশ্ন ‘রিজার্ভ’ হিসাবে সংরক্ষিত থাকে। প্রশ্ন সংরক্ষরণ ও বিতরণের ক্ষেত্রে বর্তমানে কাগজের যে প্যাকেটে সিলগালা করা হয়, তা আরো আধুনিক করা প্রয়োজন। এ জন্য পরীক্ষার প্রতিটি বিষয়ের জন্য ২০ বা তারও বেশি সেট প্রশ্নপত্র করা এবং এসব প্রশ্ন একটি সিডি বা অন্য কোনো প্রযুক্তির মাধ্যমে দায়িত্বশীল একজনের কাছে রাখা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ওয়েব পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। পরীক্ষার দিন সকালে কোন্ সেটে পরীক্ষা হবে, সেটি নির্ধারণ করার পর ঐ সেটের নির্ধারিত পাসওয়ার্ড জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বা কেন্দ্রের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের জানাতে হবে। ঐ দিন সকালেই এ কাজের জন্য নির্ধারিত প্রিন্টারের মাধ্যমে তা প্রিন্ট করে পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করা হবে। এ প্রক্রিয়া সমাধার জন্য বিদ্যুত্, দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও উন্নতমানের প্রিন্টার প্রয়োজন হবে।