মধুমাসের অন্যতম অর্থকরী ফল লিচু উত্পাদনের প্রসিদ্ধ এলাকা হিসাবে খ্যাত ঈশ্বরদী। ঈশ্বরদীর লিচুর দেশব্যাপী বিপুল কদর ও চাহিদা রয়েছে। এখানকার বেশিরভাগ চাষিরই লিচু বাগান রয়েছে। প্রতি বছরই ফলন হয় প্রচুর, দামও পাওয়া যায় ভাল। তাই অনেকেই এই লিচু মৌসুমের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া ও উচ্চ তাপমাত্রায় এ বছর গাছেই লিচু ফেটে যাচ্ছে। ফলে লিচু আর বিক্রয় উপযোগী থাকছে না। বিপুল লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন ঈশ্বরদীর লিচু চাষিরা।
জাতীয় কৃষি ডায়রীভুক্ত লিচু চাষি আব্দুল বারী জানান, এবারে কম গুটি আসায় লিচুর ফলন এমনিতেই অর্ধেকে নেমে আসে। তার উপর বৈশাখী ঝড় ও খরায় লিচুর অনেক ক্ষতি হয়েছে। উচ্চ তাপমাত্রার কারণে লিচু বড় হতে পারছে না। কোন কোন লিচু এবং গাছ খরায় শুকিয়ে মরে যাওয়ার উপক্রম।
লিচু চাষিরা জানান, এবার বেশিরভাগ গাছে লিচুর গুটি আসেনি। তার উপর অব্যাহত খরা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাঁচা লিচু ঝরে পড়ছে। সেচ দিয়েও লিচুর ঝরে পড়া ঠেকানো যাচ্ছে না। গত ২০ দিন ধরে ঈশ্বরদীর তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রী থেকে ৪২ ডিগ্রী। এমন উচ্চ তাপমাত্রা অব্যাহত থাকলে লিচুর ফলন বিপর্যয় ঘটবে। কৃষকরা জানান, ঈশ্বরদীতে একটি আধুনিক হিমাগার থাকলে লিচু সেখানে রাখতে পারলে কিছুটা হলেও কৃষকেরা লাভবান হতো। কিন্তু হিমাগার না থাকায় লিচু চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খুরশিদ আলম জানান, এ বছর ঈশ্বরদীতে ২৪০০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হলেও বৈরী আবহাওয়া ও উচ্চ তাপমাত্রার জন্য ফলন অর্ধেকেরও নীচে নেমে এসেছে। লিচু ফেটে যাওয়ার যে সমস্যা তা সমাধানের এখন আর কোন কোন উপায় নেই। গুটি অবস্থায় অত্যধিক তাপের কারণে গুটির কিছু অংশ শুকিয়ে যায়। বড় হয়ে ওই লিচুগুলো ফেটে যাচ্ছে। অভিজ্ঞ কৃষক কিংবা যারা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে বোরণ, পটাশ সার প্রয়োগ করেছেন এবং পানি ছিটিয়ে কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টি করে গুটিসহ লিচুগাছ ভিজিয়ে দিতে পেরেছেন তারা এ ধরনের সমস্যায় পড়েননি। ব্যয়বহুল হওয়ায় সকল চাষির পক্ষে এই ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।
