রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে পাস করেছে সবাই। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২৪ জন। পাসের হার শতভাগ। ঢাকা বোর্ডের এই স্কুলটি এবার মেধা তালিকায় সপ্তম হয়েছে।
এবছর এসএসসিতে আদমজীর ভালো করার পেছনে রয়েছে সাত কারণ। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এগুলো হলো- পরিচালনা পর্ষদের সঠিক পরামর্শ, শিক্ষকদের স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, মেধাবীদের যত্ন সহকারে পাঠদান, অভিভাবকদের তদারকি, শিক্ষকদের প্রচেষ্টা এবং শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম।
ভালো ফল প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুর মোরশেদ বলেন, নিয়মিত পাঠদান ও তদারকি, শিক্ষকদের প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার অবস্থা নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করার কারণেই ফলাফল ভালো হয়।
তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব পেয়েছি অল্পদিন হয়েছে। আমি মনে করি, আমাদের শিক্ষার্থীরা খুবই পরিশ্রমী। লেখাপড়ায় ফাঁকি দেয় না। শিক্ষকরা খুবই নিবেদিত। তারা ছেলেমেয়েদের পড়া আদায়ে দায়িত্বশীল। এছাড়া অভিভাবকরাও বেশ সচেতন। আর এসব কারণেই ফল ভালো হয়েছে। সামনের দিনে আরো ভালো করার প্রত্যাশা করছি।
সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক মো. শাহজাদা বলেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা খুবই সচেতন। সব সময় তাদের ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খোঁজখবর নেন। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষা স্বচ্ছ হওয়ার কারণে মেধাবীরাই এখানে পড়ার সুযোগ পায়। এক্ষেত্রে কোন আপস করা হয় না।
গণিতের শিক্ষক আবদুল খালেক তালুকদার বলেন, প্রশংসনীয় ফলাফলের পেছনে রয়েছে সুযোগ্য নেতৃত্ব ও নিবিড় তত্ত্বাবধান। শিক্ষার্থীদের পাঠোন্নতির নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং যত্ন সহকারে পাঠদান শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে সহায়ক হয়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী আবেদীন জুয়েল বলেন, শিক্ষকদের কথামতো পড়াশোনা করলে যেকোন ছাত্র পরীক্ষায় ভালো করবে। আমরা প্রতিনিয়ত শিক্ষকদের নজরদারিতে ছিলাম। তাদের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী পড়াশোনা করেছি। এই ছাত্রের বাবা আলতাব হোসেন বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য স্কুলের ব্যবস্থাপনা, শিখন পদ্ধতি, শিক্ষকদের মনিটরিং প্রয়োজন। যা এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ৩.২ একর জায়গা জুড়ে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা গুল মুহাম্মাদ আদমজী। ১৯৬০ সালে সমাজে শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। বাংলাদেশ সেনা সদরের মাধ্যমে সরাসরি পরিচালিত হয় এই স্কুল। এই স্কুলটিতে বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যম রয়েছে। শুরুতে স্কুলটিতে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হতো। বর্তমানে স্কুলটিতে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। বাংলা ভার্সন দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি এবং ইংরেজি ভার্সন ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত। দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বৃটিশ নিয়মানুযায়ী ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ানো হয়।
