‘নজরুল সাহিত্য বিশ্বকে দিয়েছেন নব যাত্রাপথ’

আপডেট : ২৪ মে ২০১৪, ২৩:২৮
নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেছেন, বাংলা সাহিত্যে নজরুল যোগ করেছেন স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত কবিকণ্ঠ। রাজনীতি সচেতনতা তাঁর সাহিত্য বিশ্বকে দিয়েছে নতুনতর অভিমুখ। নজরুল এক মৌলিক সৃজনশীল প্রতিভার নাম, যিনি একক সৃষ্টিতে বিস্তৃত করেছেন বাংলা সাহিত্যের সীমানা। সকল ধরনের মৌলবাদী-সামপ্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নজরুল চিরকাল এক প্রতিবাদী-শাণিত কবিকণ্ঠ হয়ে আমাদের বরাভয় দিয়ে যাবেন সবসময়। গতকাল বাংলা একাডেমি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার বিকালে বাংলা একাডেমি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। ‘অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস : দারিদ্র্য ও নজরুলের সাহিত্যতত্ত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. হায়াত্ মামুদ এবং অধ্যাপক ফারজানা সিদ্দিকা। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। প্রাবন্ধিক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, দারিদ্র্যের প্রত্যক্ষ পীড়ন নজরুলের সাহিত্যতত্ত্ব ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখতে হবে। ব্যক্তিগত দুঃখ-দারিদ্র্যকে তিনি তাঁর সর্বমানবিক দর্শনসমৃদ্ধ সাহিত্যকর্মে নৈর্ব্যক্তিক ব্যঞ্জনায় ভাস্বর করেছেন। বাস্তবের অগ্নিই তাঁর শিল্পকে চিরকালীন মহিমা দান করেছে। তিনি বলেন, বাংলা কাব্যে নজরুল ‘বর্তমান’কে দিয়েছেন সবল-শিল্পিত পেশী। পীড়িতের প্রতি অকৃত্রিম পক্ষপাত তাঁকে অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস দিয়েছিল। ঔপনিবেশিক কাঠামোয় বাস করে ঔপনিবেশিক সীমা-ভাঙা সাহিত্যকর্মের জন্মদান বাংলা সাহিত্যে নজরুলের অসামান্য অবদান। আলোচকবৃন্দ বলেন, নজরুলের দর্শনকে আমাদের সাহিত্য পরিসর ও জাতীয় জীবনের মানস কাঠামোয় ফলবান করে তুলতে হবে। বাংলা সাহিত্য, বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশের ইহজাগতিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও সাম্যবাদী অভিযাত্রায় নজরুল আমাদের অন্যতম প্রধান সারথি। আনুষ্ঠানিকতার বৃত্ত ভেঙে আমাদের আপন নজরুলকে পরিপূর্ণরূপে আবিষ্কার করতে হবে। শামসুজ্জামান খান বলেন, খণ্ডিত নজরুল নয়; নজরুলকে তাঁর সত্তার সামগ্র্যে আবিষ্কার করা প্রয়োজন। নজরুল প্রতিভার বিচিত্রগামিতা শুধু তাঁর সৃষ্টিকেই নয় বরং গোটা বাংলা সাহিত্যকেই করেছে সমৃদ্ধ। জাতির মাঝে মানবিক চৈতন্যের জাগরণে নজরুল-রচনা নতুন পাঠ ও বিশ্লেষণ দাবি করে। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মিনু হকের পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘পল্লবী ডান্স সেন্টার’ নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ইকবাল বাহার চৌধুরী। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী শাহীন সামাদ, ফাতেমা-তুজ-জোহরা, শহীদ কবীর পলাশ, মোমিনুল হক এবং ফারহানা শিরিন। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন পিনু সেন দাস (তবলা), মোঃ মনিরুজ্জামান (বাঁশি), আবু কামাল (বেহালা), ডালিম কুমার (কী-বোর্ড) এবং রিচার্ড কিশোর (গীটার)। সংগীতগুরু শৈলজারঞ্জন স্মরণসভা ‘শৈলজারঞ্জন মজুমদার শুধু রবীন্দ সংগীত শিল্পী ছিলেন না। তিনি ছিলেন সংগীতগুরু। শৈলজারঞ্জন না থাকলে রবীন্দ সংগীতের চর্চা ব্যাহত হতো। রবীন্দ নাথের সৃষ্টি হুমকির মুখে পড়তো। আমাদের জীবনে রবীন্দ সংগীতের গুরুত্ব যেমন, তেমনি গুরুত্ব শৈলজারঞ্জনেরও।’ রবীন্দ সংগীত শিল্পী, শিক্ষক ও লেখক শৈলজারঞ্জন মজুমদারের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। গতকাল শনিবার ছিল তার ২২তম প্রয়াণ দিবস। এ উপলক্ষে যৌথভাবে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন কংশ এক্সপ্রেস ও শিল্পকলা একাডেমি। একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভাষা-সংগ্রামী ও রবীন্দ গবেষক আহমদ রফিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন রবীন্দ সংগীত সম্মিলন পরিষদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. নুরুল আনোয়ার। একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের পরিচালক সোহরাবউদ্দীনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা শফি আহমেদ। অনুষ্ঠানে তরুণ সাংবাদিক মুহম্মদ আকবর সম্পাদিত ‘শৈলজারঞ্জন মজুমদার স্মারকগ্রন্থ’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। আলোচনা পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় শৈলজারঞ্জনের স্বরলিপি করা রবীন্দ সংগীত পরিবেশন করেন রবীন্দ সংগীত শিল্পী মনসুরা বেগম ও সেমন্তী মঞ্জুরী। তাদের কণ্ঠে গীত হয় ‘আমি শ্রাবণ আকাশে’, ‘হূদয় আকাশ হলো’সহ বেশকিছু গান। ছায়ানটের নজরুল উত্সব শুরু ছায়ানটে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে দুদিনব্যাপী জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের ১১৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে উত্সব। গতকাল শনিবার সূচনা দিনে ছিল গান, আবৃত্তি, নৃত্য ও নজরুলের লেখা থেকে পাঠ। কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিরাজ সালেকীন। সূচনা বক্তব্য রাখেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আনাম শাকিল।