মাতৃত্বের নেশায় একের পর এক সন্তানের জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন! সে সন্তান নিজের না হলেও চলবে। কিন্তু তার গর্ভ শূন্য থাকলেই নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে করেন, ডিপ্রেশন হয় বললেও অত্যুক্তি হবে না। ডাক্তারি পরিভাষায় তারাকে সারোগেট মাদার হিসেবেই চিহ্নিত করা হবে। কিন্তু সারোগেট মাদার হওয়ার জন্যে কোনো দম্পতির কাছ থেকে একটি পয়সাও নেন না তারা। কেনইবা নেবেন! সন্তান ধারণের নেশাতেই যে বুঁদ হয়ে আছেন ৩৭ বছরের তারা সয়ার। তার জীবনের গল্প শুনলে আজগুবি মনে হতেই পারে। কিন্তু আদতে তা ১০০ শতাংশ খাঁটি। এখনও পর্যন্ত সাতটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তারা। এর মধ্যে চারটি সন্তান তার নিজের। এবং দু’জন দম্পতিকে তারা উপহার দিয়েছেন আরও তিনটি সন্তান। বৃটেনের আইন অনুযায়ী কোনো নারী যদি সারোগেট মাদার হতে রাজি হন, তাহলে তাকে খরচ বাবদ পনেরো হাজার গ্রেট ব্রিটেন পাউন্ড দিতে হবে। কিন্তু এই প্রাপ্য টাকা নেয়া সাফ নাকচ করে দিয়েছেন তারা। সৃষ্টি সুখের উল্লাসই যে তার জীবনের সেরা পাওয়া!
প্রথমবার সন্তানের জন্ম দেয়ার পরেই অদ্ভুত শূন্যতা অনুভব করেছিলেন তারা। আর তাই তো রেবেকার (১৪) জন্মের দু’বছরের মাথায় জন্ম দেন হ্যারিসনকে। কিন্তু তাও নিজেকে বোঝাতে পারেননি। আরও একবার জন্ম দেন যমজ সন্তানের। কিন্তু মাতৃত্বের নেশা ততদিনে এতটাই বেড়ে গেছে যে গর্ভে সন্তানের অনুভূতি ছাড়া বেঁচে থাকাকে মেনে নিতে পারছিলেন না।
এদিকে নিজের সন্তানও চাইছিলেন না। তখনই মনে হয় তার গর্ভে সেসব দম্পতির সন্তান ধারণ করবেন যারা এই পরম সুখ থেকে বঞ্চিত। কারণ তিনিও তো ছিলেন তার মা-বাবার দত্তক সন্তান! এই পদক্ষেপে তারার পাশে সবসময় ছিলেন তার স্বামী ম্যাথু। ব্যতিক্রমী এই নারীর সগর্ব ঘোষণা— ‘যতদিন না তার জরায়ু জবাব দিয়ে দিচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত সন্তানের জন্ম দিয়ে যাবেন তিনি’।
