যখন একজন তরুণী গ্রাজুয়েশন শেষ করে চাকরির সন্ধানে ছুটে তখন তাকে বিব্রতকর, কখনও কখনও মর্জাদাহানিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। কোন অফিসে ইন্টারভিউ দিতে গেলে তার উদ্দেশ্যে প্রথম প্রশ্নটি থাকে, টাইপ পারেন তো? এই প্রশ্নটির পেছনে লুকিয়ে থাকে সূক্ষ্মভাবে হিসেব করে রাখা বহু পুরনো একটি কুসংস্কার। কেন তারা কেবল সেক্রেটারি, লাইব্রেরিয়ান ও শিক্ষক পদের জন্য বিবেচিত হবে, আর কেন পরিচালক, প্রশাসক, ডাক্তার আর কংগ্রেস সদস্য হতে পারবে না?
লুকানো সত্যটি হল নারীরা ব্যতিক্রম। তাদের নির্দেশনা দেয়ার মত মানসিকতা নেই, নেতৃত্বদানে দক্ষতা নেই এবং তারা খুবই আবেগী। এসব ধারণা আমাদের সমাজ অনেক আগে থেকেই পোষণ করে আসছে। আমি একজন কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে বর্ণবাদ থেকে রেহাই পাইনি। এটাই সত্য যে, রাজনৈতিক বিশ্বে চরম বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে আমাকে, কারণ আমি একজন নারী, এরপর আমি একজন কৃষ্ণাঙ্গ।
নারীদের নিয়ে কুসংস্কার এখনও মানা হয়। এখনও পুরুষদের নারীদের তুলনায় দ্বিগুণ স্কেলে বেতন দেয়ার মত জঘন্য কাজ প্রচলিত আছে আমাদের সমাজে এবং বেশিরভাগ চাকরিই শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য। তবে এটাই সত্য যে নারীরা তাদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে এখনও ঝাঁপিয়ে পড়ছে না। এই একই সত্যটাই কৃষ্ণাঙ্গদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল অনেক বছর ধরে। তারা দমন পীড়নকে মাথা পেতে নিয়েছিল এবং বলতে হয় তারা এতে সহযোগিতাই করেছিল। একই কাজটি করছে আজকের নারীরা। তবে সমাজে তরুণদের মধ্যে এক ধরনের সচেতনতা লক্ষ্য করা যায়।
স্পেন, আমেরিকা, ভারত কিংবা অন্যান্য দেশগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ কিংবা নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আইনগুলো রাতারাতি বদলে ফেলা সম্ভব নয়। আর এজন্য আমি আজকে একটি প্রস্তাব রাখতে চাই। আশা করছি এটা আজকে কিংবা আরও কিছুকাল পরে হলেও দেশের প্রধান আইনগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণ্য হবে। সেটা হল, সম-অধিকার সংশোধনী।
এটা স্পষ্ট যে বৈষম্য থেকেই যাচ্ছে। একজন পুরুষ যেসব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে, একজন তা পাচ্ছে না। একজন নারী কোন বোর্ডের সভাপতি হওয়ার জন্য কিংবা কোন হাউসের সদস্য হওয়ার জন্য যেসব কারণে উচ্চাকাঙ্ক্ষা লালন করে, পুরুষের ক্ষেত্রেও কারণগুলো একই। তাই নারীর কেবল অনুধাবন করা উচিত যে, সে কাজটি করতে পারে এবং সে একবার তা করে দেখতে চায়।
