কর্মক্ষেত্রে নিজের মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে সফল হওয়া প্রজন্ম নিজের সাথে প্রতিষ্ঠানের নামও তুলে ধরেন। এমনই একজন সফল ব্যক্তিত্ব মো. আহসান রাজীব। যিনি মোবাইল ফোন সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংকের মার্কেটিং বিভাগে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তাকে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন সৈয়দ শিশির
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন চাকরিরত অবস্থায়। মো. আহসান রাজীব ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের ছাত্র ছিলেন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ কোর্স সম্পন্ন করার পরই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। সেই ২০০৭ সালের কথা। বাংলাদেশের সর্ববৃহত্ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে মার্কেট কমিউনিকেশন বিভাগে যোগদানের মধ্য দিয়ে কর্মজীবনের শুরুর পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ওই প্রতিষ্ঠানে চার বছর চাকরি করার পর দুই বছর চাকরি করেন সিটিসেলে। অতঃপর ২০১৩ সালের শুরুর দিকে যোগ দেন বাংলালিংকের মার্কেটিং বিভাগে। বর্তমানে তিনি পিআর অ্যান্ড কমিউনিকেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চাকরিরত অবস্থায় আইবিএ থেকে তিনি এমবিএ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। শৈশবে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। একমাত্র ছেলে হওয়ার কারণে মা তাতে সায় দেননি। বিজ্ঞান ভালো বুঝতেন না বলে শুরু থেকেই বাণিজ্য বিভাগে শিক্ষা গ্রহণের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তিনি মনে করেন, ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে সত্যিই যেকোনো কাজে সফল হওয়া যায়। তবে একথাও সত্য যে, অধ্যয়নকালেই কাউকে ভাবতে হবে এবং সিদ্ধান্ত নিতে হবে তার ভবিষ্যত্ কর্মজীবন নিয়ে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অধ্যয়নকালে কেউ যদি তার ভবিষ্যত্ কাজের ক্ষেত্র ও পরিধি নিয়ে চর্চা করে তাহলে সাফল্য তার জীবনে অনিবার্য হয়ে ধরা দেবে।’ যেমনটি তিনি করেছিলেন বিবিএ কোর্স করার সময়। যে কারণে কোর্স সম্পন্ন করার পরই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করার সাহস দেখিয়েছেন এবং খুব একটা ঝামেলায় পড়তে হয়নি। কর্মক্ষেত্রের স্বার্থে প্রত্যেককেই সেক্টরভেদে প্রয়োজনীয় কোর্সগুলো অবশ্যই সম্পন্ন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। বিশেষ করে মার্কেটিংয়ে যারা প্রফেশনাল—তাদের জন্য অবশ্যই শর্ট কোর্স করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক্ষেত্রে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তার কর্মকর্তাদের জন্য ক্ষেত্রবিশেষে ৩-৪ দিনের বিশেষ কোর্সের আয়োজন করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এত অল্প সময়ের প্রশিক্ষণে বিশেষ কিছু অর্জন করা যায় না। তাই এক্ষেত্রে ৩-৪ মাসের কোর্সের আয়োজন করা যেতে পারে এবং প্রশিক্ষণ শেষে সনদ দেওয়া উচিত।’ মার্কেটিংয়ে কর্মরতদের ও সিনিয়রদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবশ্যই জব রোটেশন করা প্রয়োজন বলেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। রাজীব মনে করেন, জন্মগতভাবেই কেউ কোনো কাজে দক্ষ হয়ে পৃথিবীতে আসে না। প্রত্যেককেই শিখে নিতে হয়। আর এই শেখাটা জীবনের সর্বক্ষেত্রেই সহায়ক। তবে কাজ করতে হবে অবশ্যই—আত্মবিশ্বাস নিয়ে। নিজের কর্মক্ষেত্রটাকে তিনি খুবই ডায়নামিক বলে মনে করেন। কেননা শতকরা ৬০ ভাগ গ্রাহকের ক্ষেত্রেই কোনো না কোনো ধরনের প্রতিকূলতার শিকার হতে হয় বলে জানালেন। এক্ষেত্রে তার পরামর্শ হলো—কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই উত্তেজিত হওয়া যাবে না। বরং মেজাজ ঠিক রেখে, শান্ত মনে গ্রাহকের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। আবার পিছুটানেরও সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে তিনি মার্কেটিংয়েই কাজ করতে চান। তবে ক্যারিয়ারের কতটা পথ হাঁটবেন—তা এখনই বলা মুশকিল বলে জানালেন। নিজের অভিজ্ঞতা বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রয়োগের মধ্য দিয়ে পেশাগত জীবনে তিনি তৃপ্ত হতে চান। যদি কখনও এমন সুযোগ পেয়ে যান তাহলে, দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্য দেবেন—এমনটিই তার ভাবনা। দেশের ছেলেমেয়েদের সৃজনশীলতা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে বলেও তিনি মনে করেন। যোগাযোগের অভাবে শক্তিশালী অনেক পণ্যও নিজের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি গ্রাহকের সামনে তুলে ধরতে পারে না। আর এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে তরুণদের মেধা ও কর্মক্ষমতা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে বলেই নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মত প্রকাশ করেন। নিজের কর্মক্ষেত্র প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘আধুনিক বিশ্বে টেলিযোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সেক্টর। আর যথাযথ মার্কেটিং ছাড়া এ খাতটি প্রায় অচল। বিশেষ করে মার্কেটিংয়ের ওপর ভিত্তি করেই এ খাতের একটি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে এবং বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়।’ রাজীব তার লক্ষ্যের চূড়ায় পৌঁছবেন—এমনটিই আশা রইল।
মো. আহসান রাজীব
ডাকনাম :রাজীব
জন্ম তারিখ ও স্থান :৩১ ডিসেম্বর, খুলনা
মায়ের নাম :আরজাহান বানু
বাবার নাম :মো. আসাদুর রহমান
প্রথম স্কুল :রোজবার্ড কিন্ডার গার্টেন, টাঙ্গাইল
প্রিয় মানুষ :বাবা-মা
প্রিয় উক্তি :জীবনে শেখার কোনো শেষ নেই।
প্রিয় পোশাক :জিন্স, শার্ট
অবসর কাটে যেভাবে :ছবি দেখে, ছবি তুলে
সাফল্যের সংজ্ঞা :নিজকর্মে আত্মবিশ্বাস।
