একজন উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদ, পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় বিভিন্নভাবে কাজ করতে পারে; যেমন—আঞ্চলিক বিশ্লেষক, নীতিমালা বিশ্লেষক, পরামর্শক, কৌশল নির্ধারক, নীতি উদ্ভাবক, সমন্বয়ক, ব্যবস্থাপক এবং বাস্তবায়নকারী, এনিমেটর ও প্রভাবক এবং মূল্যায়নকারী ইত্যাদি হিসেবে। সর্বোপরি একটি শহর বা এলাকাকে ওই এলাকার মানুষের জন্য বসবাসের জন্য উপযুক্ত করে তোলাই আরবান প্ল্যানারের কাজ। এই পেশার প্রতি ও তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজেদের প্রত্যাশার কথা ও তাদের আশার কথা জানিয়েছেন প্রজন্মের সফল কয়েকজন আরবান প্ল্যানার। তাদের কথাকে লেখায় রূপ দিয়েছেন আহসান রনি
সাখওয়াত হোসেন তানিম
সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ, প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্স ডিপার্টমেন্ট, শেলটেক (প্রা.) লিমিটেড
প্রজন্মের অনেক মেধাবী মুখ আসছে এই পেশায়। তারা যেন কাজ করে যায়, কঠোর পরিশ্রম করে এবং বেশি বেশি অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করে—এই প্রত্যাশাই করেন তিনি। তার বিশ্বাস, তরুণরা আরও বেশি করে প্ল্যানিং পেশায় নিয়োজিত হবে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। প্রজন্ম ভালো পরিকল্পনাবিদ, সর্বোপরি ভালো মানুষ হবে এবং তাদের মেধার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করে দেশের জন্য কাজ করবে বলে আশা তার। তাদেরকে সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। যেকোনো পেশার জনপ্রিয়তা নির্ভর করে সেই পেশায় যারা নিয়োজিত তাদের কমিটমেন্ট, সততা এবং দেশ সেবার মানসিকতার উপর। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উল্লেযোগ্য কিছু দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করে পেশাকে নতুন প্রজন্মের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হবে বলে আশা তার। পেশাটি জনপ্রিয় করতে এই পেশার যে যেখানে আছেন সবাইকে পেশাদারিত্বের উত্কর্ষ সাধন করে ভালোমানের কাজ প্রদর্শন করতে হবে। প্ল্যানারদের জন্য পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ না থাকায় বিপুল সংখ্যক প্ল্যানার বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। দেশ হারাচ্ছে মেধাবী পরিকল্পনাবিদ। কিন্তু এসব মেধাবীদের কাছ থেকে প্রত্যাশা থাকবে তারা নিজের দেশকে ভুলে যাবেন না; তারা তাদের অবস্থান থেকে বাংলাদেশে এই পেশার উন্নয়নে কাজ করে যাবেন। সরকারের উচিত নাগর পরিকল্পনা বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করা এবং দেশের মানুষকে নগর পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন করে তোলা।
০০০
সায়মা রহমান
প্রভাষক, আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল বিভাগ
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা
দেশের ভেতর অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে সাথে প্ল্যানারদের চাহিদাও বাড়ছে। তবে প্ল্যানারদের কাজের সুযোগ এখনও আমাদের দেশে সেভাবে তৈরি হয়নি। তাই সরকার প্ল্যানারদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়ে তাদের মেধা প্রয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। উপজেলা পর্যায়ে প্ল্যানার নিয়োগের বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকার সচেষ্ট হবে বলে আশা করেন তিনি। প্ল্যানারদের জন্য স্বতন্ত্র বিসিএস পদ সৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। পেশাটি একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে অচিরেই দেখা দেবে বলে প্রত্যাশা করেন এই শিক্ষক। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, কনসালটেন্সি ও বিয়েল এস্টেট ফার্মগুলোতে প্ল্যানারদের কাজ করার ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আশা করেন তিনি। বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা, প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে পরিকল্পিত নগরায়নের গুরুত্ব জনগণের সামনে নিয়ে আসা হবে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হবে বলে প্রত্যাশা তার। এখন থেকে সামনের একদশক পরে বাংলাদেশের একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। তখন ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে শহরে এবং গ্রামে। পরিকল্পিত আবাসন গড়ার প্রয়োজনীয়তা এখন মানুষ বুঝতে শিখেছে, সে সময় আরও বেশি করে বুঝবে। তাই প্ল্যানারদের কদরও বাড়তে থাকবে। কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হবে এবং প্ল্যানাররা পেশাগত দিক থেকে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
০০০০
তাসফিন আজিজ
কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট,
সিবিএসিসি-সিএফ প্রকল্প, ইউএনডিপি
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সকল স্তরেই নগর পরিকল্পনাবিদগণ অবদান রাখবেন বলে আশা করেন তিনি। সকল শহর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে নগর পরিকল্পনাবিদগণ আরও বেশি সাফল্যের সাথে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা তার। তিনি মনে করেন নগর পরিকল্পনা পেশার জনমুখী দিকগুলোই এ পেশার বিস্তারে যথেষ্ট সহায়ক হবে। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অনেক। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের আদলে পরিকল্পনা অলিম্পিয়াড শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া প্রচারমাধ্যমগুলোতে আরও বেশি পরিমাণে নগরের নানাবিধ বিষয়ে অনুষ্ঠান ও গবেষণাধর্মী ফিচার করাও জরুরি। আজকে তরুণরা অনেক সাহসী। একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা হিসেবে নগর পরিকল্পনা বিষয়টি সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হলে তারা অবশ্যই আগ্রহী হবেন বলে তার বিশ্বাস। পিএসসি-এর মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে নগর পরিকল্পনা একটি আলাদা ক্যাডার সার্ভিস হিসেবে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যার দাবি অনেক দিন ধরেই পরিকল্পনাবিদদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) জানাচ্ছে। তিনি আশা করেন, সরকারি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার ক্ষেত্রেও পরিকল্পনা পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে।
