সাতক্ষীরা জেলায় লক্ষাধিক ঘেরে ভাইরাসে মারা যাচ্ছে বাগদা চিংড়ি মাছ। মৌসুমের শুরুতে এবার মারাত্মক ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়ায় লাখো ঘের মালিক সর্বস্বান্ত ও নিঃস্ব হতে বসেছে। যে সব প্রান্তিক চাষি ব্যাংক ঋণসহ ধারদেনা করে ঘেরে বিনিয়োগ করেছিলেন তাদের এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
বাংলাদেশ চিংড়ি চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার আবুল কালাম বাবলা ইত্তেফাককে জানান, এবার মৌসুমের শুরুতেই ভাইরাস ও হিটস্ট্রোকে অধিকাংশ ঘেরে চিংড়ি মাছ মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার কামালকাটি ও খুঁটিকাটা এলাকায় চলতি মৌসুমে তিনি দেড় হাজার বিঘা জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে চিংড়ি ঘেরে এমন মড়ক (ভাইরাস) লাগতে দেখা যায়নি। ভাইরাসের পাশাপাশি এবার হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি চিংড়ি মারা যাচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য ঘেরে পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মড়ক লাগার পাশাপাশি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে চিংড়ি।
জেলার বেশি চিংড়ি উত্পাদন হয় কালীগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলায়। এ দুই উপজেলার অধিকাংশ মানুষ চিংড়ির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মৌসুমে যে হারে চিংড়ি মারা যাচ্ছে ঘেরে তাতে অনেকের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। আশাশুনি উপজেলার বল্লবপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস মোড়ল জানান, গত বছর চিংড়িতে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কিছুটা কম থাকায় এবার প্রায় ৩শ’ বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করেছেন। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে চিংড়ি মারা যাচ্ছে। কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামের গুল্লের বিলের ঘের ব্যবসায়ী মঞ্জুর আলম পলাশ জানান, গত বছর চিংড়ি মাছ করে লাভ হওয়ায় এবার দুইটি ঘের থেকে বাড়িয়ে জমি লিজ নিয়ে ৪টি ঘের করেছেন। কিন্তু এ মৌসুমে প্রতিদিন মাছ মারা যাচ্ছে। বিনিয়োগকৃত টাকার সিকি ভাগও উঠবে না বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা মত্স্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ৬টি উপজেলার ৫৯ হাজার ১৬৩ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বাগদা চিংড়ি চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর ২ হাজার ১০৫ হেক্টর, তালায় ১ হাজার ২৯৫ হেক্টর, দেবহাটায় ২ হাজার ৮২৯ হেক্টর, আশাশুনিতে ১৩ হাজার ২১৭ হেক্টর, কালীগঞ্জ ১৪ হাজার ৫৫৯ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ১৫ হাজার ১৫৮ হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ করা হয়েছে। গত মৌসুমের তুলনায় এবার প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি জমিতে চিংড়ি চাষ করা হয়েছে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা বাংলাদেশ চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি ডা. আবতাফুজ্জামানের। তিনি বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ঘেরে পানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিংড়ি মারা যাচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা মত্স্য কর্মকর্তা আবদুল অদুদ জানান, ঘেরের পানি ধরে রাখা সম্ভব না হওয়ায় এবার ভাইরাসের চেয়ে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বেশি চিংড়ি মাছ মারা যাচ্ছে।
