আরামদায়ক, আধুনিক ও স্বস্তিদায়ক—একই সাথে পছন্দের পোশাকটা তো ফ্যাশনেবল হতেই হবে। এ সময়ে তাই চলছে কুর্তা আর টপস। সঙ্গে জিন্স বা লেগিংস। টিনবয়সী থেকে শুরু করে ত্রিশের মধ্যে সবাই পরতে পারেন এমন কুর্তা। আর গরম বলেই তাতে ব্যবহার করা হচ্ছে আরামদায়ক কাপড় আর ঢিলেঢালা কাট। রঙের বাহারও দারুণ। এ নিয়ে এবার কিছু কথা। লিখেছেন নাজনীন শিমু
গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রাণ যেন ওষ্ঠাগত। চারদিকে বিরাজ করছে গরমের তাপ। আর এ সময়টাতে চলে নিজেকে রোদ থেকে রক্ষার প্রস্তুতি। চলাফেরায় সব কিছুতেই চলে সাবধানতা। ষড়ঋতুর এই বাংলাদেশ। ছয়টি ঋতুই পরিবর্তিত হয় আপন মহিমায়। তারই হাত ধরে প্রকৃতিতে খেলা করে বৈশাখী তেজ। বৈশাখী ঝড়ের তীব্রতার মতোই এর রোদের তেজ। যে কারণে বাধ্য হয়েই পরিবর্তিত হয় দৈনন্দিন চলাফেরা এবং যাপিত জীবন। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সব কিছুতেই আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পরিবর্তনের এ তালিকায় পোশাক অন্যতম। অর্থাত্ সময়োপযোগী আরামদায়ক পোশাকের দিকে নজর সবার। কারণ পোশাক যদি আরামদায়ক না হয় তাহলে ঘামে ভিজে একাকার হয়ে যেতে হবে। যার ফলে ঋতুভিত্তিক পোশাকের প্রস্তুতি আগে থেকেই সেরে রাখা যায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এসব পোশাক শুধু গতানুগতিক ধারাতেই থাকে না, বরং নিত্য নতুন ফ্যাশন যোগ করা হয়। টপস ও স্কার্ট হচ্ছে তেমনি একটি সংযোজন। বাঙালি নারীদের ক্ষেত্রে বারো হাত শাড়ির কথা প্রযোজ্য থাকলেও ফ্যাশন হাউসগুলো দেশীয় ঐতিহ্য ছাড়াও তাদের ঝুলিতে যোগ করেছে বিভিন্ন দেশের ফ্যাশন। টপস মূলত পশ্চিমা দেশের ঐতিহ্য। তা সত্ত্বেও নিজস্ব কৃষ্টি কালচরের সঙ্গে যোগ হয়েছে পশ্চিমা পোশাক। সেই ধারাবাহিকতায় টপস এখন দেশীয় ফ্যাশনের অন্তর্ভুক্ত।
তারুণ্যের এই সময় ঝোঁক তৈরি হয় ফ্যাশনের দিকে। তবে কোন ধরনের পোশাকে মানাবে, তা নিয়েও তৈরি হয় বিভ্রান্তি। সালোয়ার-কামিজে অনেক টিনএজার স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। আবার ফ্রকও এ সময় ঠিক মানায় না। ফ্যাশন করতে পছন্দ করে, এমন টিনএজাররা টপস, কাফতান, স্টাইলিশ কুর্তা বেছে নিতে পারে অনায়াসেই। দেখতেও ভালো লাগবে, পরেও আরাম পাবে। অন্যদিকে এ পোশাকগুলোই আবার অনায়াসে মানিয়ে যাবে ত্রিশের কোঠায় আছেন, এমন অনেক নারীকে। তবে সে ক্ষেত্রে হয়তো কাটিং ও নকশায় কিছুটা পরিবর্তন আসবে। ছোট কাফতান না পরে একটু লম্বা কাফতান বেছে নিলেই ভালো লাগবে। টপসের রং একটু গাঢ় অথবা কার্টুন ছবির না হলেই মানিয়ে যাবে বয়স ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে।
পুরোনো নকশা নতুন রূপে
পুরোনো জিনিসের নতুন চেহারা। ফ্যাশনের ধারাবাহিকতায় এ বিষয়টিই হয় সাধারণত। কয়েক বছর আগের কাটিংয়ের সঙ্গে নতুন কোনো কাটিং যোগ করলেই তৈরি হয়ে যায় নতুন আরেকটি ফ্যাশনেবল পোশাক। বাজার ঘুরে নতুন পোশাকগুলোর ক্ষেত্রে এমন দৃশ্যই বেশি বেশি দেখা গেল। তবে আনকোরা নতুন কাটছাঁটও চোখে পড়ে যায় মাঝেমধ্যেই। দাওয়াতে পরার জন্য বিভিন্ন প্যাটার্ন ও কাটিংয়ের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। পোশাকগুলোয় প্রিন্ট, হাতের কাজ, টাইডাইয়ের বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে আছে এসিমেট্রিকাল কাট, বেলুন কাট, কাফতান কাট, পঞ্চ কাট, ওয়েস্ট লাইন এম্পায়ার কাট ইত্যাদি।
বেলুন কাটের মজা হলো, নিচের দিকটা বেলুনের মতো ফুলে থাকবে। অন্যদিকে মিডি কাটের আরেক নাম হলো ওয়েস্ট লাইন এম্পায়ার কাট। এটি হাঁটুর নিচ পর্যন্ত যায়। টিনএজাররা টাইটস দিয়েও পরতে পারে, টাইটস ছাড়াও পরতে পারে। এসিমেট্রিকাল কাট নিচের দিকে কিছুটা ঢেউয়ের মতো উঁচু-নিচু ছাঁটে করা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ পোশাকই বানানো হয়েছে নিট ও সুতির কাপড় দিয়ে। তবে দাওয়াতের জমকালো ভাব তুলে ধরার জন্য আছে সিল্ক, জর্জেট, হাফ সিল্ক কিংবা অ্যান্ডি কাপড়। এ পোশাকগুলোয় কখনো দেওয়া হয়েছে ফুলেল, জ্যামিতিক কিংবা কার্টুনের নকশা। কখনো বা হালকা এমব্রয়ডারির কাজ দেওয়া হয়েছে গলা ও হাতায়। কাফতানগুলোয় ভিন্নতা আনতে করা হয়েছে টাইডাই। কোনো কোনো কুর্তায় বৈচিত্র্য আনতে বেল্ট ব্যবহার করা হয়েছে। গলার কাছে কিংবা ঠিক মাঝখানটায় সোজা বরাবর অনেক কুচির ব্যবহার এখন লক্ষণীয়। বেশির ভাগ কুর্তাই একটু লম্বার দিকে। এ বছরও চলবে লম্বা পোশাকের ট্রেন্ড।
হাতা ও গলার কাটছাঁট
ক্যাপ স্লিভ, বেল স্লিভ, কিমোনো স্লিভ, মাটন লেক স্লিভের কাট দেওয়া হয়েছে হাতায়। এ ছাড়া গলার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে কাউল নেক, ম্যান্ডারিন নেক, সেইলর নেক ছাড়াও গোল ও ডিম্বাকার গলা।
টাইটসের জনপ্রিয়তা এখনো আছে। চলবে বছরজুড়েই। তাই এ ফ্যাশনেবল পোশাকগুলো অনায়াসেই চলে যাবে একই কিংবা বিপরীত রঙের লেগিংস কিংবা প্যান্টের সঙ্গে।
ক্রেতারা ইচ্ছে করলে টপস এবং স্কার্ট আলাদা করে কিনতে পারে আবার সেট হিসেবেও কিনতে পারে। শেপ ও ডিজাইন ভেদে দরদামে পার্থক্য থাকবে। টপসের দাম পড়বে ৬৫০ থেকে ১৮৫০ টাকা। স্কার্টের মূল্য ৮০০ থেকে ২২৫০ টাকার মধ্যে। পশ্চিমা পোশাক হলেও হালের ফ্যাশনে টপস ও স্কার্ট দারুণভাবে মানানসই।
-মডেল বাঁধন ও নীলা পোশাক জেন্টল পার্ক ওমেন মেকআপ হেয়ারোবিক্স ব্রাইডাল ছবি তাহের মানিক
