দেশের প্রাচীনতম নজরুল চর্চা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নজরুল একাডেমী এগারোই জ্যৈষ্ঠ নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রবিবার থেকে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা শুরু করেছে। শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে রবিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিশিষ্ট কবি ও গবেষক নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, কার্যত ১৯২২ সালেই কাজী নজরুল তাঁর ‘লাঙ্গল’ পত্রিকার মাধ্যমে প্রথম উপ-মহাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। আবার তিনিই ১৯৪২ সালে তাঁর সম্পাদিত দৈনিক ‘নবযুগ’ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁরই রচিত ‘বাঙ্গালীর বাংলা’ শিরোনামের অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ ও তাত্পর্যপূর্ণ প্রবন্ধের মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলার তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। জাতীয় কবির এই ব্যতিক্রমী প্রবন্ধই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম এবং মূল ইশতেহার, স্বাধীনতার মূল দলিল। এরই সূত্র ধরে নানা চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে ১৯৭১ সালে এসে আমরা স্বাধীন রাষ্ট্রসত্তা কায়েম করেছি। তবে নজরুল যে অবিভক্ত এবং বৃহত্তর বাংলার নির্দেশ করেছিলেন সময়ের বিবর্তনে তা আর বাস্তব রূপ লাভ করেনি। সেই অর্থে কাজী নজরুলই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম ও প্রধান ঘোষণাকারী ব্যক্তিত্ব। মূল সনদ বা ইশতেহার প্রদানকারী মহাপুরুষ।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন, প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন, ১৯২৯ সালে কলকাতা অ্যালবার্ট হলে সমগ্র বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে কবির সংবর্ধনা সভায় কলকাতাকেন্দ্রিক কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী-সাংবাদিক ও সুধী সমাজের উপস্থিতিতে প্রধান অতিথির ভাষণে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু কর্তৃক নজরুলকে ভারতের জাতীয় কবি হিসাবে ও ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার হে’ গানটি জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে ঘোষণার ৮৫তম বার্ষিকী পালন উপলক্ষে ২৫-২৭ মে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী দিবসে রবিবার সকাল ৭টায় জাতীয় কবির সমাধিসৌধে নজরুল একাডেমীর পক্ষ থেকে পুষ্প অর্পণ ও ফাতেহা পাঠশেষে বিকালে জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর স্বাগত ভাষণ দেন নজরুল গবেষক ও নজরুল একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক মিন্টু রহমান। জনপ্রিয় নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক-মুক্তিযোদ্ধা এমএ মান্নান জীবনী পাঠ করেন শামীমা চৌধুরী। প্রধান অতিথি নজরুল একাডেমী পদকপ্রাপ্ত শিল্পীর হাতে পদক সম্মানি, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেন। শিল্পীকে নজরুল একাডেমী ও উপস্থিত দর্শক-শ্রোতার পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হবে।
প্রধান অতিথি ‘নজরুল একাডেমী পত্রিকা ৪৫ বর্ষ : ৪১ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বিশিষ্ট প্রবন্ধকার ও নজরুল একাডেমীর গবেষণা, প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক ম. মীজানুর রহমান। বিশেষ অতিথির ভাষণ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের বেগম মালা খুররম, সুজেয় শ্যাম, মো. আব্দুল জব্বার, আশফাকুর রহমান খান, কিংবদন্তী শিল্পী ও নজরুল একাডেমীর নির্বাহী সদস্য মুস্তাফা জামান আব্বাসী, ‘দি নিউ এজ’ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর ও দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র সাব-এডিটর মুহ. আরিফ-উদ-দৌলা। প্রধান অতিথির ভাষণ দেন বিশিষ্ট কবি, শিক্ষাবিদ, নজরুল ইন্সটিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। সভাপতির ভাষণ দেন নজরুল একাডেমীর সভাপতি বিশিষ্ট কবি, শিক্ষাবিদ ও লোকবিজ্ঞানী ড. আশরাফ সিদ্দিকী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নজরুল একাডেমীর যুগ্ম-সম্পাদক প্রকৌশলী এম আতিকুর রহমান।
দ্বিতীয় পর্বে নজরুল জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
