ক্ষেতেই ধান কাটা, মাড়াই, বস্তাভর্তিসহ পরিবহন এই একের ভেতর চার কাজ করায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার গ্রাম্য চিকিত্সক আনোয়ার হোসেনের উদ্ভাবিত ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’। এই মেশিনে ক্ষেতের মধ্যেই ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তাভর্তি হয়ে যায়। একইসাথে ক্ষেত থেকেই বস্তাভর্তি হয়ে ধান সরাসরি চলে যাচ্ছে কৃষকের গোলায়। ধান কাটা, মাড়াই, বস্তাভর্তিসহ পরিবহনে কোনপ্রকার ঝামেলা না থাকাসহ সময় ও অর্থ ব্যয় কম হওয়ায় এলাকার কৃষকরাও ঝুঁকে পড়ছেন এই মেশিনের দিকে।
সোমবার সরেজমিনে উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আনোয়ার হোসেনের উদ্ভাবিত দুইটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে এলাকার বোরো ক্ষেতের ধান কাটা, মাড়াই, বস্তাভর্তিসহ পরিবহন চলছে ক্ষেত থেকে। এই মেশিনের কথা জানতে পেরে গত বছর ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত, কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। একইসাথে ড্যানিশ রাষ্ট্রদূত ও এসিআই কোম্পানি তার এই মেশিনের ফর্মুলা কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিলেও আনোয়ার হোসেন সেটি দেননি। কারণ তার ইচ্ছা তার উদ্ভাবিত মেশিনটি দেশের কাজে লাগুক। সহায়তা সরকার করুক, অন্য কেউ নয়।
কৃষক আনছার আলী মাস্টার, জাকির হায়দার ও ভাইরো টুডু বলেন, গত দুই বছর থেকেই আনোয়ার হোসেনের তৈরি ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’ দিয়ে জমির ধান কাটা, মাড়াই, বস্তাভর্তিসহ পরিবহনের কাজ করছেন। এতে অর্থ ও সময় দুই-ই কম লাগছে। আনোয়ার হোসেন তার মেশিন দিয়ে ধান কেটে, মাড়াই করে, বস্তাভর্তি করে কৃষকের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। কৃষক নূর আলম, মজিবর রহমান, ইসাহাক আলী ও মমতাজ টুডু বলেন, স্থানীয়ভাবে ক্ষেতমজুর দিয়ে এক একর জমির ধান কাটতে অর্থ ব্যয় হচ্ছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। ঐ পরিমাণ জমির ধান কাটতে সময় লাগে একদিন। আর কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে সেই একই পরিমাণ জমির ধান কাটতে অর্থ ব্যয় হচ্ছে ৪ হাজার টাকা এবং সময় লাগছে দেড় ঘণ্টা মাত্র। এক্ষেত্রে ক্ষেতের ধান মাড়াই ও বস্তাভর্তির জন্য কোন সড়ক কিংবা চাতালও ব্যবহার করতে হচ্ছে না। এসব কারণে এলাকার কৃষকই নয়, আশপাশের সকল এলাকারই কৃষক এখন আনোয়ার হোসেনের ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’ ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
মেশিনের উদ্ভাবক আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০০৬ সালে কোরিয়ার দুইটি পুরাতন মেশিন দেখে হারভেস্টার তৈরির কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর ২০১২ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে এলাকার কৃষকদের ক্ষেতের ধান কাটা, মাড়াই, বস্তাভর্তিসহ পরিবহন কাজ শুরু করেন। গত আমন ও বোরো মৌসুমে তার আয় হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা। বর্তমানে তার তিনটি মেশিন কাজ করছে মাঠে। গত বছর থেকে প্রায়ই কৃষি বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আসছেন। সরকারি সহায়তা পেলে আরও উন্নত ও আধুনিক মেশিন তৈরি করা যেতো।
