চট্টগ্রামে পানির দাবিতে কলসি ভেঙে বিক্ষোভ

আপডেট : ২৬ মে ২০১৪, ২৩:০৩
চট্টগ্রাম নগরীতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট বিরাজ করছে। নগরীর হালিশহর ও আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দারা সপ্তাহে একদিনও পানি পান না। পানি সংকটে বাসা ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে ভাড়াটিয়ারা। দীর্ঘদিন ধরে পানি সংকটে অতিষ্ট কয়েক হাজার নারী-পুরুষ গতকাল সোমবার খালি কলসি ভেঙে ওয়াসা ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ আগামী সাতদিনের মধ্যে পানি সংকট নিরসনের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা ফিরে যায়। সারা বছরই পানি সংকট থাকে উঁচু এলাকা হালিশহর ও আগ্রাবাদে। কিন্তু গ্রীষ্মকালে পানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। পানি সংকট প্রসঙ্গে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোরশেদ আকতার চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘গত বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার আগে এলাকায় সপ্তাহে দু’দিন ওয়াসার পানি পাওয়া যেতো। খেলা চলাকালীন পানি স্বল্পতার কথা বলে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এলাকায় পানি সরবরাহ কমিয়ে দেয়। তারপর থেকে সরবরাহ আর বাড়ানো হয়নি। যার ফলে মানুষ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে।’ পানি সংকট নিয়ে বিক্ষুব্ধ কয়েক হাজার নারী-পুরুষ গতকাল সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। এতে হালিশহর ও আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা, ক্লাব ও এনজিও’র ব্যানারে মিছিল নিয়ে হাজারো মানুষ জড়ো হয় এবং মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে দামপাড়ায় ওয়াসা ভবন ঘেরাও করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ মানুষ খালি কলসি ভেঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে একটি প্রতিনিধি দল ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাসে ২/৩ দিনের বেশি পানি পাওয়া যাচ্ছে না। মানুষ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। বাসা ভাড়া হচ্ছে না। বিভিন্ন কোম্পানির জারের পানি কিনে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হচ্ছে। এলাকায় পানি সংকট নিয়ে ওয়াসার কর্মকর্তাদের একাধিকবার অভিযোগ করেও কোন সুফল মিলছে না। হালিশহর ও আগ্রাবাদ এলাকায় ওয়াসার পানি তত্ত্বাবধান করে মড-১। নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুব আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের উত্পাদন যা হচ্ছে তা রেশনিং করে সরবরাহ দিচ্ছি। কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প চালু না হওয়া পর্যন্ত পানি সরবরাহ বাড়ানোর কোন সম্ভাবনা নেই। এলাকাবাসীর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি হয়েছে।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পানি সংকটের কারণে রেশনিং করে সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। হালিশহর আবাসিক এলাকার মধ্যে পানি সরবরাহে সিডিউল হচ্ছে এ ব্লকে ১২ ইঞ্চি পাইপ লাইনে সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও ৮ ইঞ্চি লাইনে শুক্রবার। ফইল্যাতলী বাজার এলাকায় রবিবার, আই ও জে ব্লকে সোম ও মঙ্গলবার, নিউ এ ব্লকে বুধবার এবং দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় শনিবার। সেই হিসাবে সপ্তাহে একদিন ওয়াসা পানি সরবরাহ দিচ্ছে। গ্রিনভিউ আবাসিক এলাকায় ওয়াসার একটি পাম্প হাউজ রয়েছে। এই পাম্প হাউজ থেকে এসব এলাকায় পানি সরবরাহ দেয়া হয়। ওয়াসার মড-১ এর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, মড-১ এলাকায় প্রায় ৪০টি পাম্প রয়েছে। এসব পাম্প থেকে দৈনিক ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়। কিন্তু এখন চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। নতুন সংযোগ প্রদান চালু রয়েছে। গ্রীষ্মকালে পাম্প এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় চাহিদা মতো পানি উত্তোলন করা যায় না। তারপরে উত্পাদন বাড়ানো না গেলেও সরবরাহ ধরে রাখতে ২০টি পাম্পে বিদ্যুতের এক্সপ্রেস লাইন ও ১২টিতে ডিজেল চালিত জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, পাম্পগুলোর গভীরতা প্রায় ৩০০ ফুট। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় আরো গভীরে যেতে হচ্ছে। পানিতে অতিমাত্রায় আয়রণ ও লবণাক্ততার কারণে পাইপ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় সময় পাম্পে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উত্পাদন বন্ধ থাকে। মেরামত করে উত্পাদন অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। যার কারণে পাম্পগুলোতে উত্পাদন অনেক কমে গেছে। তবে পাম্পগুলোর যে অবস্থা মেরামত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেও পানির উত্পাদন আর বাড়ানো যাবে না বলে ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান।