নূর হোসেনের ‘বান্ধবী’ নীলা রিমান্ডে

আপডেট : ২৬ মে ২০১৪, ২৩:০৭
নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় প্রধান আসামি কাউন্সিলর নূর হোসেনের ‘বান্ধবী’ কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস নীলাকে অন্য একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এদিকে সাত খুনের ঘটনায় চার ওসিসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলাউদ্দিন জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের জুয়েল নামের এক যুবক হত্যা মামলায় গতকাল সোমবার সকাল সাতটায় নীলাকে তার বাসা থেকে আটকের পর থানায় নেয়া হয়। পরে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যাবিদ হোসেনের আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। প্রসঙ্গত, নীলা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর। এর আগে গত ১৮ মে নীলাকে আটক করা হলেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয় ডিবি পুলিশ। জানা গেছে, গত বছরের ২৬ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জের আইউবনগর এলাকা থেকে জুয়েল নামের এক ব্যক্তির দেহ ও পরে মাথা উদ্ধার করা হয়। পরদিন ২৭ অক্টোবর থানার এসআই জিন্নাহ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ ও মনা নামের দুইজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নীলা জড়িত বলে স্বীকার করেন। কিন্তু তখন নূর হোসেনের প্রভাবের কারণে পুলিশ নীলাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ২০১১ সালে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। চার ওসিসহ ৬ পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদ এদিকে সাত খুনের ঘটনায় গতকাল ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি। গতকাল বিকাল সোয়া তিনটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউসে গণশুনানি চলাকালে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লার নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তারা হলেন—ফতুল্লা থানার সাবেক ওসি আকতার হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাবেক ওসি আবদুল মতিন, ফতুল্লা থানার সাবেক ওসি (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম, জেলা ডিবির সাবেক ওসি (তদন্ত) আবদুল আউয়াল, ফতুল্লা থানার সাবেক এসআই ফজলুল হক ও জহিরুল ইসলাম। এর আগে রবিবার সাবেক জেলা প্রশাসক মনোজ কান্তি বড়াল ও সাবেক পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত কমিটি। আইনজীবীদের বিক্ষোভ চলছেই অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকারসহ আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় আইনজীবীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে খুনীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, মিডিয়াতে প্রকাশ হওয়া নূর হোসেন ও একজন জনপ্রতিনিধির কথোপকথনই প্রমাণ করে যে নূর হোসেনকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন ওই জনপ্রতিনিধি। সমাবেশে আরও ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান শাহীন, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল বারী ভুঁইয়া, অ্যাডভোকেট রমজান আলী, অ্যাডভোকেট রকিবুল হাসান শিমুল প্রমুখ। সাখাওয়াতকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি সম্মিলিত পরিষদের সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের সন্ধান পেতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও শামীম ওসমানের প্রকাশ করা অডিও টেপের ‘গডফাদার’ ও ‘গডমাদার’কে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা। গতকাল দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে খুনীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এই দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান দিপু, অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভুঁইয়া, পাবলিক প্রসিকিউরটর (পিপি) আসাদুজ্জামান, অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন প্রমুখ। জড়িতদের শাস্তি চায় মৈত্রী আইনজীবী সংঘ সাত খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবিতে গতকাল মানববন্ধন করেছে আইনজীবীদের অরাজনৈতিক সংগঠন মৈত্রী আইনজীবী সংঘ। এ সময় তারা দাবি করেন রবিবার তাদের মানববন্ধন চলাকালে বক্তাদের দেয়া বক্তব্য বিকৃত করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার শাস্তি দাবি করেছেন। কিন্তু কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি বা কোন জনপ্রতিনিধির নাম উল্লেখ করেননি।