বরিশাল-৫ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার মীর শাহজাহানকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। একজন নির্বাচন কমিশনারের নোটের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ বলেন, কমিশন সভায় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আছে। দ্রুত তাকে প্রত্যাহার করা হবে।
গত ৯ এপ্রিল বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর কারণে আসনটি শূন্য হয়। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুসারে এ আসনের উপ-নির্বাচনে আগামী ১২ জুন ভোট গ্রহণ হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনের স্ত্রী বেগম জেবুন্নেছা আফরোজ এবং বিএনএফ-এর প্রার্থী সাইফুল ইসলাম লিটন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসাইন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তার সমর্থনে এক শতাংশ ভোটারের তথ্যে গড়মিল থাকার অভিযোগে রিটার্নিং অফিসার সে মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। তবে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসাইনের অভিযোগ, রিটার্নিং অফিসার এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। তিনি এক শতাংশ সমর্থক ভোটারের যে তালিকা রিটার্নিং অফিসারকে দিয়েছিলেন তার মধ্যে নির্বাচনী বিধিমালা অনুসারে দৈব চয়নের ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করা হয়। এতে কোনো গরমিল পাওয়া যায়নি। কিন্তু পরে রিটার্নিং অফিসার ওই এক শতাংশ ভোটারের তালিকা তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বেগম জেবুন্নেছা আফরোজের কাছে পাঠান এবং জেবুন্নেছা আফরোজের পক্ষ থেকে রিটার্নিং অফিসারকে জানানো হয়, তালিকায় ৬ জন ভোটার সমর্থকের তথ্য সঠিক নয়। এ তথ্য বিবেচনায় নিয়ে রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। রিটার্নিং অফিসারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসাইন নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে গত ২০ মে কমিশন রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে আপিলের রায় দেন। তবে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার অভিযোগ আনেন।
