নানা কারণে কত ধরনের কুসংস্কার বা চিরাচরিত অভ্যাসকেই না আমরা লালন করি। তবে কখনো কখনো যে এই কুসংস্কারই ভয়ংকর বিপদের কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে সেটি নতুন করে আরও একবার সবার চোখের সামনে নিয়ে এসেছে আমেরিকার ওরিগন অঙ্গরাজ্যের ম্যানিং এ ঘটে যাওয়া একটি সড়ক দূর্ঘটনা। সড়ক পথের একটি সুড়ঙ্গ পাড়ি দেওয়ার সময় নিঃশ্বাস বন্ধ করে গাড়ি চালাতে গিয়ে ড্যানিয়েল জে ক্যালহন নামের এক কিশোর এই দূর্ঘটনা ঘটান। হাইওয়ে টোয়েন্টিসিঙ্ টানেলে ঘটা এই দূর্ঘটনায় ক্যালহন ছাড়াও মারাত্মকভাবে আহত হন তার গাড়ির অপর যাত্রী ও তারই সমবয়সী ব্রাডলি মেরিং এবং মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়া অপর গাড়ির দুই যাত্রী যথাক্রমে ৬৭ ও ৬১ বছর বয়সী থমাস হ্যাচ ও ক্যান্ডেস হ্যাচ। এ ছাড়া ঘটনার একটু পর টানেলের মাঝে আটকে থাকা এই গাড়ি দু’টিকে অপর একটি পিকআপ ট্রাক সজোরে ধাক্কা দিলেও কোনো ধরনের আঘাতপ্রাপ্ত হননি পিকআপটির চালক ও সহকারী। এদিকে দূর্ঘটনার পর হাসপাতালে পুলিশের কাছে দেওয়া ক্যালহনের জবানবন্দীতেই বেরিয়ে আসে তার নিঃশ্বাস বন্ধ করে গাড়ি চালানোর বিষয়টি। ওই কিশোর জানান, এভাবে নিঃশ্বাস বন্ধ করে গাড়ি চালাতে গিয়েই সে কিছুটা সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়ে এবং এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপর পাশ থেকে আসা গাড়ির সাথে সংঘর্ষ ঘটায়। এ সম্পর্কে পুলিশ লেফটেনেন্ট গ্রেগ হ্যাস্টিং জানিয়েছেন, মূলত কুসংস্কার বা চিরাচরিত বিশ্বাসের কারণে অনেকেই এ ধরনের সুড়ঙ্গপথে নিঃশ্বাস বন্ধ করে ফেলেন। এর মধ্যে একদলের বিশ্বাস হলো এই যে, সুড়ঙ্গের মাঝে নিঃশ্বাস বন্ধ করে কোনো কিছু চাইলে তা পাওয়া যায়। অন্যদিকে একদল বিশ্বাস করে যে সুড়ঙ্গের মধ্যে আটকে থাকা বাতাসে শ্বাস নিলে তাদের ক্ষতি হতে পারে বা অশুভ আত্মার রোষে পড়তে হতে পারে। এ ছাড়া অনেকে বন্ধু বা সহকর্মীদের সাথে বাজি ধরেও এক নিঃশ্বাসে টানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে ৫৫ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে ৭৭২ ফুট লম্বা এই সড়ক টানেলটি অতিক্রম করতে যেখানে মাত্র দশ সেকেন্ডের মতো সময় লাগে সেখানে ক্যালহন কেন নিঃশ্বাস বন্ধ রাখতে গিয়ে কেন অচেতন হয়ে পড়েছিলেন সেটা একটা রহস্য।
