চাই সৃষ্টিশীল প্রজন্ম

আপডেট : ২৭ মে ২০১৪, ২২:১৮
এ প্রজন্ম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানে অগ্রগামী। এটা আমাদের জন্য আশার কথা। বিশ্বায়নের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হলে এর বিকল্প নেই। তবে সব ভালো জিনিসের চাই সুষ্ঠু, পরিকল্পিত ও যথাযথ ব্যবহার। এক্ষেত্রে আমাদের সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি চোখে পড়ার মতো। প্রযুক্তির নিত্য-নতুন ধারণার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার বাসনায় উদ্গ্রীব এ প্রজন্ম। অজানাকে জানবার আগ্রহ মনুষ্যমাত্রেই স্বাভাবিক। তবে সবকিছুর ক্ষেত্রে একটা মাত্রাজ্ঞান থাকা প্রয়োজন। ইন্টারনেট সুবিধা দ্রুতগতিতে আমাদের হাতের নাগালে আসছে। ইন্টারনেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত সমকালীন অন্যতম সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক’র জনপ্রিয়তা, ব্যবহার ও প্রয়োজন আমাদের মধ্যেও বাড়ছে। ফেসবুক ব্যবহারকারী ফেসবুকে অনায়াসে নিজের অভিমত, অনুভূতি, মতামত এবং নানারকম ছবি প্রকাশ করছে। ফেসবুকের বহুবিধ ব্যবহার অনস্বীকার্য। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এ প্রজন্মের অধিকাংশেরই রয়েছে ইন্টারনেট ও ফেসবুক উন্মাদনা এবং আসক্তি। অনেক সময় নিজের অজান্তেই তারা জীবনের অনেক মূল্যবান সময় হারাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অনেকেই পড়াশোনার মূল্যবান সময়টাতে ফেসবুক ব্যবহার করছে। এমনকি পরীক্ষার পূর্বমুহূর্তেও তারা অনেকেই ফেসবুকে সক্রিয় থাকছে। গভীর উদ্বেগের বিষয় হলো, পাঠ্যপুস্তক অথবা পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বই পড়ার প্রতি তাদের অনীহা ও উদাসীনতা বিদ্যমান। এ বিষয়টি আমাদের বেদনাভারাক্রান্ত করে তোলে। যদি তারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ প্রমুখের প্রেমে পড়তো অথবা তাদের মধ্যে জন্মাতো সাহিত্যানুরাগ ও বিদ্যানুরাগ, তাহলে আমরা পেতে পারতাম একটি সময়নিষ্ঠ, মননশীল ও সৃষ্টিশীল প্রজন্ম। এমন প্রজন্মই আমাদের উপহার দিতে পারতো একটি অভিনব বাংলাদেশ। নতুন প্রজন্মকে মেধাবী, মননশীল, সৃষ্টিধর্মী এবং একইসঙ্গে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে। বই পড়ার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে। পড়াশোনার বাইরে নানান সৃষ্টিশীল কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিদ্যমান সৃষ্টিশীলতার যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। আমরা আশাবাদী, নতুন দিনের সূচনা হবে সৃষ্টিশীল প্রজন্মের হাতেই। ঢাকা