বংশাই ও লৌহজং নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন

আপডেট : ২৭ মে ২০১৪, ২২:৪৪
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার উত্তরে বংশাই এবং দক্ষিণে লৌহজং নদীর বুকে ড্রেজার ও ভ্যেকু বসিয়ে প্রভাবশালীরা কেটে নিচ্ছে কোটি টাকার বালু ও মাটি। স্থানীয় প্রশাসন মাটি চোরদের কাছ থেকে গত তিন মাসে প্রায় ৮ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে বলে জানিয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার বাইমহাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন সুলতানা নজরুল ইসলাম নামে এক মাটি চোরকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। উপজেলার বংশাই ও লৌহজং নদীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একটি চক্র নদীর চর এবং তীর কেটে নিচ্ছে। ভ্যেকু এবং ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি কাটার ফলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট, বাজার, মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে। কোদালিয়া গ্রামের হযরত আলী (৬৩) বলেন, একটি চক্র ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দিনে-রাতে মাটি চুরি করে নিচ্ছে। বংশাই নদীর ফতেপুর, হিলড়া আদাবাড়ি বাজার, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, ত্রিমোহন, কোদালিয়া, হাঁটুভাঙ্গা ও আজগানা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ভূমি দস্যুরা নদীর বুকে ভ্যেকু ও ড্রেজার বসিয়ে শতশত ট্রাক মাটি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এই মাটি নেয়ার ফলে এলাকার রাস্তাঘাট ভেঙ্গে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ হতে চলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই অবস্থা দেখা গেলো লৌহজং নদীর মাঝালিয়া বাজার সংলগ্ন ধানকি, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, উফুলকি, বরাটি, ইচাইল, পুষ্টকামুরি, বাইমহাটি, বহুরিয়া এবং নাগরপাড়া এলাকায় ভূমি দস্যুরা ভ্যেকু, ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ও ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি কেটে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন সুলতানা এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আকতারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, অবৈধভাবে যারা নদীতে মাটি কেটে নিচ্ছে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে তাদের নামে মামলা দেয়া হচ্ছে এবং জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। তাদের এ ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানিয়েছেন।