গরুর খামার করে ৪ বছরে যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছেন নবাবগঞ্জ উপজেলার কান্দামাত্রা গ্রামের মায়ারানী বাউল। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস তাকে এক্ষেত্রে সহায়তা করেছেন। মায়ারানীর সাফল্যে উত্সাহিত হচ্ছেন এলাকাবাসী।
মায়ারানী বাউল জানান, কৃষি কাজের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উত্স খুঁজছিলাম। ২০১৪ সালে ২৪ হাজার টাকায় বকনা বাছুরসহ একটি গরু কিনে পালন শুরু করেন। এরপর তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের মাধ্যমে গরু পালনের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ২০১৫ সালের শুরুতে স্বামী পল্লি চিকিত্সক জগদিস বাউলের সহায়তায় এবং ফসল বিক্রির টাকায় আরও ৫টি গরু কিনে বাড়িতেই খামার গড়ে তোলেন। ছোট ছেলের নামে খামারের নাম রাখা হয় ‘অমিত ডেইরী ফার্ম’। খামার বড় করতে ২০১৬ সালে ৫০ লাখ টাকার ব্যাংক ঋণ নেন। গরুর জন্য ঘাস উত্পাদন করতে ঋণের টাকা দিয়ে কেনা হয় ৪ বিঘা জমি আর ১শ গরু পালনের জন্য ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় বিশাল টিনসেড ঘর। বর্তমানে তার খামারে গরুর সংখ্যা ৮০তে দাঁড়িয়েছে। গরুগুলো অস্ট্রেলিয়ান, জার্সি, ক্রস, শাহিয়ান, সিন্ধি প্রজাতির।
মায়ারানী বলেন, খামারে বেশ আয় হলেও খরচও কম নয়। খামারে ৯জন শ্রমিক কাজ করছে। সঙ্গে মায়ারানী, তার স্বামী এবং ছেলেও কাজ করে। গরুর খাবার হিসেবে প্রতিদিন ৫ মণ ধানের কুড়া, গমের ভুসি, ডালের ভুসি কিনে আনতে হয়। এছাড়াও নিজেদের জমিতে ঘাস উত্পাদন করা হয়। একেকটি গরুর প্রতিদিন ১০-১২ কেজি করে ঘাস লাগে।
খামারে ১৮টি গরু প্রতিদিন গড়ে ১২০ লিটার দুধ দিচ্ছে। বছরে অন্তত ২০টি ষাঁড় গরু বিক্রি করা হয়। লোকজনের আবদারে দু-চারটি বকনা বাছুরও বিক্রি করতে হয়। তা থেকে আয় বছরে ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা। গরুর বিষ্ঠা ও মূত্র বাড়িতে স্থাপিত বায়োগ্যাস প্লান্টের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মায়ারানী বাউল তার পরিশ্রমের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ২০১৬ সালে উপজেলা কৃষি অফিস কর্তৃক শ্রেষ্ঠ কৃষানি এবং ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারে ভূষিত হন মায়ারানী।
নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, মায়ারানী অত্যন্ত পরিশ্রমি নারী। তার গরুর খামারে প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন। গরুর কৃত্রিম প্রজনন, টিকাবীজ, চিকিত্সাসহ সবক্ষেত্রেই তাকে সহায়তা করছেন তারা। নেপিয়ার পাচং ঘাস উত্পাদনেও তাকে সহায়তা করা হয়েছে।
