নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার লক্ষ্মীকোল বাজারের ডক্টরস ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক মালিক এমদাদুল হক আনিস (৩৬) অপহূত হয়েছেন। এ ব্যাপারে গতকাল বুধবার সকালে বড়াইগ্রাম থানায় জিডি করা হয়েছে। এদিকে গত সোমবার রাতে পাবনার ফরিদপুরের সোনাহারা ত্রি-মোহনীতে নৌকা থেকে মোহর আলী (৩২) নামে এক দুধ ব্যবাসায়ীকে অপহরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানী থেকে নিখোঁজ কলেজ ছাত্র ফারহান জামান রাজশাহীতে উদ্ধার হয়েছে।
বড়াইগ্রামে অপহূত এমদাদুল হক আনিসের শ্বশুর নজরুল ইসলাম জানান, আনিস ব্যক্তিগত কাজে গত মঙ্গলবার সকালে নাটোর শহরে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। পরে সন্ধ্যায় অপহরণকারীরা আনিসের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবার মোবাইলে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবিকৃত টাকা মঙ্গলবার রাত ১০টার মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করতে বলা হয়। ওই সময়ের মধ্যে টাকা না পেলে আনিসকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। এরপর থেকে আনিসের মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহম্মদ ইব্রাহিম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অপহূত ব্যক্তিকে উদ্ধারে তত্পরতা শুরু করা হয়েছে। অপহূত আনিস উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের মোজাহার আলীর ছেলে।
দুধ ব্যবসায়ী মোহর আলীর ব্যাপারে ফরিদপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয় মোহর আলী এবং বাশুরিয়া গ্রামের আয়নুল হকের ছেলে রেজাউল নৌকায় দুধ নিয়ে বাঘাবাড়ী মিল্ক ভিটায় পৌঁছে দেয়। ফেরার পথে সোনাহারা ত্রি-মোহনীর কাছে অপর একটি নৌকা আড়াআড়িভাবে তাদের গতিরোধ করে। মুখোশ পড়া ১০-১২ জন লোক নৌকায় ওঠে রেজাউলের হাত-পা এবং চোখ বেঁধে মোহর আলীকে জোর করে নৌকায় তুলে নিয়ে চলে যায়।
ফরিদপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, মোহর আলীর ব্যবসায়ীক প্রতিদ্বন্দ্বী রেজাউলসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অপরহণের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশী তত্পরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অন্যদিকে গত মঙ্গলবার রাত ৯টায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের সামনে ঢাকা থেকে নিখোঁজ ফারহান জামানকে উদ্ধার করা হয়েছে। সে ঢাকার মহাখালীস্থ বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র। ঢাকার জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা এজিএম বজলুর রশিদের ছেলে সে। ফারহানকে তার বাবা বজলুর রশিদ ও মা ফিরোজা বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফারহান কিভাবে রাজশাহীতে এসেছে এ সম্পর্কে সে পুলিশ ও সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দিতে পারেনি। ফারহানের আচরণ রহস্যজনক বলে পুলিশ সাংবাদিকদের জানিয়েছে। তবে পুলিশের ধারণা, বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ফারহান রাজশাহীতে অবস্থান করছিল।
হরিণাকুণ্ডুতে মাদ্রাসা ছাত্র অপহরণ
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে অপহূত মাদ্রাসা ছাত্র আব্দুর রহিমকে ছয় দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি এরশাদুল কবির চৌধুরী জানান, আব্দুর রহিম কুলবাড়িয়া উপজেলার খলিশাকণ্ডু গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। একটি মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ত সে। ওই ছাত্রের বাবার কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে অপহরণকারীরা।
