জাপানিদের জন্য চট্টগ্রামে পৃথক ইপিজেড হবে

আপডেট : ২৯ মে ২০১৪, ২৩:২০
জাপানী বিনিয়োগকারী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার পৃথক রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা স্থাপন করবে। এজন্য চট্টগ্রামে পাঁচশ’ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের পাঁচটি ইপিজেডে জাপানী বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪০টি প্লট ও দুইটি শিল্প ইমারত সংরক্ষিত থাকবে। সম্প্রতি জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রতি এ ঘোষণা দেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানান। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে তিনি বাংলাদেশ সফর করবেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার আলম প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বর্ণনা করে বলেন, বড় ও উন্নত এবং শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই ভাল ও উষ্ণ। বর্তমান সরকারের উপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। জাপান, রাশিয়া, চীন এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক পথেই এগুচ্ছে। কাজ করতে গিয়ে কোন সমস্যা হচ্ছে না। দেশগুলো বুঝতে পেরেছে যে, বাংলাদেশ কাজের জন্য ও বিনিয়োগের সবচেয়ে ভাল জায়গা। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতা ও মাত্রায় পৌঁছেছে। জাপান এখন আমাদের বড় অংশীদার। এবারের প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করেন যে, অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় সম্পর্ক অনেক ভাল। পাঁচটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানের অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। আমরা এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প বাছাই করে চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করব। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রকল্প চূড়ান্ত করতে। জাপান ও অর্থায়ন চূড়ান্ত করতে তাদের বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে পাঠাবে। দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে। জুন মাসে ঢাকায় পরমাণু শক্তি বিষয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়াতে রুলস অব অরিজিন আরো শিথিল করার আশ্বাস দিয়েছে জাপান। বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাসহ শিক্ষার্থীদের জন্য জাপান সরকারের বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বন্ধুত্বের প্রতীক হিসাবে জাপানে এক জোড়া রয়েল বেঙ্গল টাইগার পাঠানোর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে জাপানের জনগণ বিশেষ করে শিশুরা বাংলাদেশের প্রকৃতি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবে। ২০২০ সালে জাপানে অনুষ্ঠেয় অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিক গেমস্ এর জন্য অনেক দক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিক নেবে বাংলাদেশ থেকে।