বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহল বিনিময়ের বিষয়টি সম্প্রতি সক্রিয়ভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের নয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার এই আশ্বাসে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন দুই দেশের ১৬২ ছিটমহলের বাসিন্দারা। বাংলাদেশে তার প্রথম সফরে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই বিষয়টির সমাধান হবে বলে তাদের আশা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় সাত দশক ধরে ভাগ্য বিড়ম্বিত ছিটমহলবাসী নিজ ভূমে পরবাসী। নিজেদের পরিচয় গোপন করে শিক্ষা, চিকিত্সা সেবা নিতে হচ্ছে তাদের। রেজিস্ট্রির সুযোগ না থাকায় জমি কেনা-বেচাও বন্ধ। আইন-শৃঙ্খলার বালাই নেই। মৌলিক চাহিদা তাদের জীবনে অনুপস্থিত। প্রটোকল সীমানা চুক্তি (ল্যান্ড বাউন্ডারি এগ্রিমেন্ট) বাস্তবায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেও তারা ভাঙ্গতে পারেনি এই পরাধীনতার শৃঙ্খল।
ছিটমহল বিনিময়ে ২০১১ সালে ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল স্বাক্ষর করে। কিন্তু বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বার বার উদ্যোগ গ্রহণের পরেও কোনো সুষ্ঠু সমাধান আসেনি। সর্বশেষ গত বছরের আগস্টে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরোধিতায় ভারতের রাজ্যসভায় ‘ল্যান্ড বাউন্ডারি এগ্রিমেন্ট’ বিল উত্থাপিত না হওয়ায় ছিটমহলবাসীর বুক ভেঙ্গে যায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দু’দেশের ১৬২ ছিটমহলের মধ্যে ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ছিটমহল রয়েছে ৫১টি। আর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে। ২০১১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী ছিটমহলের লোকসংখ্যা ৫১ হাজারেরও বেশি। ছিটমহল বিনিময়ে বন্ধুপ্রতিম দুটি রাষ্ট্র কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বন্দীদশা থেকে মুক্তি মিলবে ছিটবাসীদের। দীর্ঘ ভোগান্তির অবসানের পাশাপাশি তারা ফিরে পাবে তাদের নাগরিক অধিকার।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও ভারতীয় ইউনিটের সভাপতি দীপ্তিমান সেন গুপ্ত বলেন, আমরা আশাবাদী এবারে রাজ্যসভায় বিলটি উত্থাপন হলে আর কোনো পক্ষই এর বিরোধিতা করবে না। বাংলাদেশ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, আমরা আশাবাদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশে তার প্রথম সফরে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এ বিষয়টির সমাধান করবেন।
