একবার না পারিলে দেখ শতবার এই লাইনটি আমরা বহুবার পড়েছি ও শুনেছি, কিন্তু আমরা ব্যর্থ হলে আশপাশের নানাজনের নানা তিরস্কার শুনে আমরা ভুলে যাই যে একবার না পারলে বারবার চেষ্টা করতে হবে। ব্যর্থতা মানে শেষ নয়, ব্যর্থতা মানেই আপনি সফলতার পথে হাঁটছেন। ব্যর্থতাকে জয় করার উপায় জানিয়ে লিখছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন তাহের মানিক
ছোটবেলা থেকেই সবার একটা স্বপ্ন থাকে। স্কুল ও কলেজ শেষ করে ভর্তি পরীক্ষায় এসে অনেকেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে না। প্রথম ধাক্কাটা এখানেই পায় সে। স্কুল-কলেজে সবসময় প্রথম হয়ে আসা ছেলে বা মেয়েটি যখন ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তখন হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে পরিবার থেকে চাপ দেওয়ার ফল খুব খারাপ হয়। এরপর আসে পছন্দের বিষয় না পাওয়াটা। কেউ হয়তো পড়তে চেয়েছে কম্পিউটার সায়েন্সে কিন্তু পেল অন্য বিষয়, তখন একটা খারাপ লাগা কাজ করে। সে সময় সমাজ এবং পরিবার থেকে যদি খারাপ কোনো ব্যবহার পায়, তখন তার মধ্যে জন্ম নেয় হতাশা। আবার কেউ হয়তো তার পছন্দের বিষয় পেলেও কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আর ভালো ফলাফল করতে পারছে না। তাহলেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। পড়ার চাপ কুলিয়ে উঠতে না পেরে অনেকের ভেতর হতাশা সৃষ্টি হয়। তরুণদের মাঝে হতাশার মূল কারণগুলো এমনই। হতাশা নয়, জীবনে থাকুক আনন্দ ও উচ্ছলতা। অসীম চাহিদা আর সসীম সম্পদের দ্বন্দ্বটা আমাদের বাস্তবতার খুব পরিচিত এক চিত্র। এর কারণেই আমাদের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মাঝে এত ব্যবধান, যে ব্যবধান আমাদের টেনে নামাতে পারে হতাশার কালো গহ্বরে।
ভুলে ভরা পথের শুরু
হতাশাগ্রস্ত হয়ে অনেকেই করে বসেন জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা। নিজেকে একেবারে হেরে যাওয়া মানুষ ভেবে নেন প্রত্যাশিত জায়গায় ভর্তির সুযোগ না পেয়ে। অনেকেই আর ভালো কোথাও ভর্তির চেষ্টা ছেড়ে দেন। অথবা প্রত্যাশিত বিষয় না পেয়ে পাওয়া বিষয়টিকেও অবহেলা করে বসেন। অনেক ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল করতে না পেরে ছেড়ে দেন পড়ালেখা। প্রিয় কারও কাছে কষ্ট পেয়ে তার সঙ্গে জীবনের ছোট ছোট অপ্রাপ্তি যোগ করে হয়তো কেউ বেছে নেন আত্মহননের পথও।
জীবনের সঠিক পরিকল্পনা
মানুষের চাওয়া-পাওয়ার ব্যবধানটা সারা জীবনই মানুষকে তাড়া করে ফিরতে পারে, তবে সঠিক পরিকল্পনা আর উপযুক্ত পথটি বাছাই করে অনেকটাই কমিয়ে ফেলা যায় এর মাঝের দূরত্বটা। মানুষ পারে না এমন কিছু নেই। হতাশার নিয়ন্ত্রণ করে সফল হতে মানুষ ইচ্ছে করলেই পারে। ক্যারিয়ারের জন্য পড়াশোনা নয় বরং জানার জন্য পড়তে হবে। পড়ার বইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান সব বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। মুখস্থ করার অভ্যাস বদলে কোনো বিষয় আত্মস্থ করার অভ্যাসটা ছোটবেলা থেকেই আয়ত্ত করতে হবে। প্রত্যাশিত বিষয় না পাওয়া মানে সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয় বরং যে বিষয়টিতে সে ভালো, তার মাধ্যমেও জীবনে সফল হওয়া সম্ভব। পরিবারের সদস্যদের আরও বেশি আন্তরিক হতে হবে। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ঠিক থাকলে, হতাশাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। যার যে বিষয় বা পেশা পছন্দ, সেটি মাথায় রেখে সে অনুযায়ী ছোটবেলা থেকে নিজেকে তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজটের সময় বসে না থেকে পরবর্তীকালে প্রয়োজন হবে, এমন কোনো কোর্স করা যেতে পারে। দেশে ও দেশের বাইরে কী হচ্ছে, কোন কাজের চাহিদা বেশি তার খোঁজ রাখতে হবে। ইন্টারনেট, সংবাদপত্র নিয়মিত দেখতে হবে। সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করতে হবে। যে যেই পেশায় যেতে চায় ছাত্র অবস্থাতেই, সে সম্পর্কিত জায়গায় খণ্ডকালীন চাকরিও করতে পারে। এ অভিজ্ঞতা পরবর্তীকালে কাজে আসবে। ছাত্র অবস্থাতেই বন্ধুরা মিলে ছোট কোনো ব্যবসা করা যেতে পারে।
দুঃখ-কষ্ট মিলিয়েই জীবন। তাই অপ্রত্যাশিত দুঃখ-কষ্ট মোকাবিলা করার মনমানসিকতা পোষণ করতে হবে। চলার পথে বাধা আসবেই। তাই বলে থেমে থাকলে চলবে না। হতাশায় আচ্ছন্ন হলেও না। বরং সফল হতে চালিয়ে যেতে হবে নিরন্তর চেষ্টা।
কিছু টনিক
আপনি জানেন আপনি কে কিন্তু আপনি জানেন না ভবিষ্যত্ কী হবে। তাই ব্যর্থতার গ্লানি মুছে ফেলুন এবং হতাশা থেকে বের হয়ে আসুন। ঝাঁপিয়ে পড়ুন সুন্দর আগামীর পথে। জীবন মানে সমস্যা আর ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা এবং সমস্যাকে আপনি নেতিবাচক না ভেবে ইতিবাচক ভাবুন। প্রতিটি মানুষের কিছু প্রিয় মানুষ এবং প্রিয় কয়েকটি মুহূর্ত থাকে, যখনই আপনি ব্যর্থতার হতাশায় ভুগবেন তখন প্রিয় মানুষগুলোর সাথে আড্ডা দিন এবং প্রিয় স্মৃতিগুলো মনে করুন। আমরা ছোটবেলায় হাঁটতে গিয়ে অনেকবার পড়েছি কিন্তু তবুও আমরা হাঁটার চেষ্টা ছাড়ি নাই। ব্যর্থতা সাফল্যের চাবিকাঠি, এই কথাটি নিজেকেই বারবার স্মরণ করাতে হবে। তাহলে আপনার কাছে মনে হবে আপনি সফল হতে যাচ্ছেন। ব্যর্থতা থেকে বের হয়ে সফলতার দিকে হাঁটতে হলে আপনাকে ধারাবাহিকভাবে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।
প্রথমে আপনাকে স্বপ্ন দেখতে হবে।
তারপর পরিকল্পনা করতে হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী যে বিষয়ে সফল হতে চান সে বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করুন।
এরপর কাজে নেমে পড়ুন।
মডেল ভাবনা
