তারুণ্যের ঝোঁক এখন কমার্স বিষয়ে

আপডেট : ৩০ মে ২০১৪, ২০:০২
বিশ্বায়নের এই যুগে এখন ব্যবসায় শিক্ষার জয়জয়কার। যে হাওয়া লেগেছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়ও। দেশ-বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের সাথে সাথে ব্যবসায় শিক্ষা লাভ করছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তাই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ব্যবসায় শিক্ষাকে গুরুত্ব সহকারে পড়ানো হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কমার্স বিশেষায়িত কলেজ। সাম্প্রতিককালে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৬০ ভাগ শিক্ষার্থীই ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে অধ্যয়ন করছে। ব্যবসায় শিক্ষার প্রতি ক্রমবর্ধমান এই ঝোঁকের কারণে রাতারাতি বেশ কিছু কমার্স বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করছে হাতে গোনা দু’একটি প্রতিষ্ঠান। এই তালিকায় অগ্রগণ্য একটি নাম গুলশান কমার্স কলেজ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত অনার্স কলেজসমূহের ব্যবসায় অনুষদের ছাত্রছাত্রীদের জনপ্রিয় লেখক, কমার্স পাবলিকেশন্সের প্রতিষ্ঠাতা এমএ কালামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ব্যবসায় শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু হয় কমার্স শিক্ষার দিকপাল এই কলেজটির। এখানে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান ও ব্যবসায় শিক্ষা প্রসারের পথিকৃত্ প্রফেসর মো. মঈনউদ্দীন খান। একই সাথে এখানে আছেন ব্যবসায় শিক্ষায় বিশেষায়িত ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষাবিদগণ। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এদের প্রথম ব্যাচ। ওই ব্যাচে শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করে কলেজটি। এ ছাড়া ২০০৮ সালে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করে রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছিল এই কলেজটি। ২০০৯ ও ২০১০ সালে পাসের হার ছিল যথাক্রমে ৯৮ ও ৯৭% এবং ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালে কলেজটি অর্জন করে আরও ভালো ফলাফল। বিশেষ করে বৃদ্ধি পায় জিপিএর হার। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, প্রত্যেকেরই জিপিএ-র হার ভর্তিকৃত সময়ের তুলনায় আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। অর্থাত্ প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর জিপিএ এসএসসির তুলনায় এইচএসসিতে বৃদ্ধি পায়। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার পাশাপাশি এখানে নানারকম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ, দেশপ্রেম ও মানবিকতা বোধে উদ্বুদ্ধ হতে সহায়তা করা হয়। সেজন্য মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত নানা কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণ, স্বাধীনতা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, জাতির জনকের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী ও মহান বিজয় দিবস সাড়ম্বরে উদযাপন করে আসছে এই প্রতিষ্ঠান। বিগত বিজয় দিবসে বাড্ডা থেকে ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শোভাযাত্রা নিয়ে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে সমবেত হয়। অংশগ্রহণ করে লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত ও পতাকা হাতে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পতাকার রেকর্ড গড়তে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য লালন করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া নিয়মিত শিক্ষা সফর ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত করা হয় এখানে। এসব কারণে কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক। একই সাথে নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে প্রেরণামূলক বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। যা শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। কলেজটির বোর্ড ফলাফল ও অন্যান্য সাফল্য প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ এমএ কালাম বলেন, ‘সেমিস্টার পদ্ধতিতে পাঠদান, ক্লাসে পড়া আদায়ের ব্যবস্থা, বাধ্যতামূলক ফ্রি কোচিং, সপ্তাহে দু’টি টিউটোরিয়াল পরীক্ষা, ফলাফল পর্যালোচনা, অভিভাবক শিক্ষক সমন্বয়ে সভা, সর্বোপরি শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ইত্যাদি সমন্বিত প্রয়াসের ফলেই আমরা ক্রমাগতভাবে ভালো ফলাফল অর্জন করছি।’ কমার্স বিষয়ে পড়ার জন্য জানতে ভিজিট করতে পারেন : www.gccedubd.com