নাগেশ্বরীতে বাঁশ শিল্পীদের দুর্দিন

আপডেট : ৩০ মে ২০১৪, ২১:২৫
নাগেশ্বরীতে বাঁশ শিল্প হারাতে বসেছে তার গৌরবোজ্জ্বল অতীত। সীমাহীন দারিদ্র্যের কারণে বাঁশ শিল্পীরা বাঁশ ও দা-এর সাথে সম্পর্ক চুকে ফেলায় কমে যাচ্ছে এ পেশাজীবীর মানুষ। বাঁশের মূল্যবৃদ্ধি, কুটির শিল্পের আলাদা কোন বাজার না থাকা, দিনদিন প্লাস্টিক সামগ্রীর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে উপার্জন ও ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে না পারায় সংশ্লিষ্ট মানুষ ছেড়ে দিচ্ছে এ পেশা। যারা বাপ-দাদার এ পেশাকে আঁঁকড়ে ধরে এখনো আছেন তাদের দিন কাটে অতিকষ্টে। এক সময় কৃষিনির্ভর গ্রামবাংলার নিত্য প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি কাজে বাঁশ শিল্পের জনপ্রিয়তা ছিল আকাশ চুম্বী। গৃহস্থালি সামগ্রীর পাশাপাশি ঘর সাজাবার শৌখিন উপকরণ তৈরি হতো বাঁশ থেকে। হামাগুড়ি শেষে দৌড় শেখার সাথে একটা শিশুর হাতে তুলে দেয়া হতো বাঁশের তৈরি ঘূর্ণিসহ বিভিন্ন খেলনা। বৈদ্যুতিক সুবিধা পৌঁছার আগে গরমে ব্যবহূত হতো বাঁশের তৈরি হাতপাখা, মাছ ধরায় চাঁই, ঝোকা, জাকই, টেপা, খাইদন, বাগা, বৃষ্টি ও রোদ থেকে রক্ষায় ঝাপি, ঝুপরি, গৃহস্থালি কাজে কুলা, ডালি, চালুনি, ডালা, টুকরি, চঙ্গাই, খালই, চাটাই, ডুলি, ডোল, ঘরের দরজায় কাউর, ফরফরি ইত্যাদি ব্যবহূত হতো। বাঁশের তৈরি এসব জিনিসের ব্যাপক চাহিদা থাকায় তখন অনেকে যুক্ত হয় এ পেশায়। এখন তা শুধুই অতীত। ভিতরবন্দ, নেওয়াশী, বোয়ালের ডারা, মধুর হাইল্ল্যা, বল্লভের খাষসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে ২ শতাধিক পরিবারের সবাই এক সময় বংশ পরম্পরায় এ পেশার সাথে জড়িত ছিল। এখন এদের অনেকেই পৈতৃক পেশা ছেড়ে রিকশা-ভ্যান চালিয়ে, বাসের হেল্পার, দিনমজুরি ও মৌসুমী শ্রমিক হিসেবে অন্য জেলায় শ্রম বিক্রি করে জীবন চালাচ্ছেন।