হবিগঞ্জে বেদখল হচ্ছে পুরোনো খোয়াই নদী

আপডেট : ৩০ মে ২০১৪, ২২:৪১
হবিগঞ্জে বেদখল হয়ে যাচ্ছে পুরাতন খোয়াই নদী। নদীর দখলকৃত অংশে রাতারাতি মাটি ভরাট করে তৈরি হচ্ছে বাড়িঘর দোকানপাট। গত তিন দশক ধরে এই দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলকারীরা গ্রাস করেছে বলে আশংকা করা হচ্ছে। জানা যায়, খোয়াই নদীর পরিত্যক্ত অংশের ৪৭ দশমিক ৫০ একর খাস জমি এখন অবৈধ জবর দখলকারীদের কবলে। দীর্ঘদিনেও এসব অবৈধ জবর দখলকারীদের উচ্ছেদের ব্যাপারে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় মূল্যবান সরকারি খাস জমি স্থায়ীভাবে বেহাত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ দখলকারী উল্লেখিত ভূমিতে কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছে। আবার অনেকে বাড়ি ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করছে। কোন কোন ক্ষেত্রে রেজিষ্ট্রি দলিলের মাধ্যমে সরকারি খাস জমি কেনাবেচা হচ্ছে। ১৯৭৮-৭৯ সালে খোয়াই নদীর বন্যার কবল থেকে হবিগঞ্জ শহরকে রক্ষাকল্পে নদীর মাছুলিয়া থেকে রামপুর পর্যন্ত অংশ বাঁক কেটে সোজা করা হয়। এতে নদী শহরের পূর্ব দিকে সরে যায়। বাঁক কাটা প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ায় নদীর পরিত্যক্ত অংশে মত্স্য চাষ এবং দুই তীরে বনজ সম্পদ ও ফলের চাষ করে কয়েক কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য ধার্য করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অবৈধ দখলকারীরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও পেশী শক্তি প্রদর্শন করে মূল্যবান সরকারি ভূমি গ্রাস করে নেয়। একইভাবে তারা বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাত দেখিয়ে সরকারি উচ্ছেদ কার্যক্রমকেও প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়।