চুক্তি নবায়ন ছাড়াই লুব্রিক্যান্ট ব্যবসা

আপডেট : ৩০ মে ২০১৪, ২২:৪২
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সাথে নিয়মমাফিক চুক্তি নবায়ন না করেই দেশের ১৯টি প্রতিষ্ঠান সারাদেশে ‘ইঞ্জিন অয়েল, লুব্রিক্যান্ট’-এর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ তথ্য প্রকাশ করে চট্টগ্রামস্থ বিপিসি’র প্রশাসনিক শাখার সূত্রগুলো জানায়, চুক্তি নবায়ন না করে এবং বিপিসি’র লাইসেন্স ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সারাদেশে লুব অয়েলের ব্যবসা ও বাজারজাতকরণের তত্পরতায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দেশের পেট্রোলিয়াম এ্যাক্ট-১৯৭৪ লংঘনের দায়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। চুক্তি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও লাইসেন্স নবায়ন না করে দীর্ঘদিন ধরে লুব অয়েলের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার কারণে বিপিসি দেশের ২০টি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি বাতিল করে ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লুব হাউস ইন্ডাস্ট্রিজ নামের মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান চুক্তি নবায়নের জন্য আবেদন করে বলে জানায় চট্টগ্রামস্থ বিপিসি’র প্রশাসনিক শাখা। কিন্তু বাদ-বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তি বাতিলের পরও তাদের লুব ব্যবসা ও বাজারজাতকরণ তত্পরতা অব্যাহত রেখেছে। বিপিসি’র সাথে চুক্তি বাতিল হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চট্টগ্রামের ৩টি, ঢাকার ১৫টি এবং বগুড়ার ১টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিপিসি’র চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, দু’একটি সংস্থা চুক্তি নবায়নের জন্য আবেদন করেছে বলে জানি। বিষয়টি মনিটরিং করছে বিপিসি’র প্রশাসনিক বিভাগ। বিপিসি’র সচিব দীপক চক্রবর্তী ইত্তেফাককে জানান, চুক্তি বাতিল হওয়ার পরও বাজারজাতকরণসহ অন্য প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তত্পরতা সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য একটি টিম কাজ করছে। ঐ টিমের কাছ থেকে ইতিমধ্যে দুয়েকটি প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে। যারা বকেয়া লাইসেন্স ফি পরিশোধ করে চুক্তি নবায়নের আবেদন করবে তাদেরকে পুনরায় লাইসেন্স দেয়ার বিষয়টি সংস্থা কর্তৃপক্ষ সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করবে। বিপিসি’র প্রশাসনিক শাখার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গণবিজ্ঞপ্তি জারির পর নরসিংদীর একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠানই নবায়নের আবেদন নিয়ে আসেনি। উপরন্তু খেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলো এই কথাও বলছে যে, যেখানে বাংলাদেশে লুব অয়েল অবাধে আমদানির অনুমতি রয়েছে, সেখানে বাজারজাতকরণে কোনো বিধিনিষেধ থাকতে পারে না। দেশে লুব অয়েল আমদানির ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকলেও বাজারজাতকরণের জন্য আবেদনকারীদের পণ্যের গ্রেড ও গুণাগুণ সঠিক রয়েছে কি না, বিপিসি লাইসেন্স দেয়ার আগে তাও পরীক্ষা করে থাকে। কিন্তু চুক্তি বাতিল হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো অবৈধভাবে ব্যবসাতো করছেই তার উপর তাদের পণ্যের মানও যথাযথভাবে পরীক্ষিত নয়। ফলে সারাদেশে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্যাপিটাল যন্ত্রপাতি এবং মূল্যবান যানবাহনের ইঞ্জিন ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে। চুক্তি বাতিল করে দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে : প্যাসিফিক অয়েল কোম্পানি চট্টগ্রাম, ফুকস জিএইচএল লুব্রিকেন্ট চট্টগ্রাম, বেন লুব প্রাঃ লিঃ ঢাকা, নোবেল হাউজ লিঃ ঢাকা, বারাকা লিঃ ঢাকা, এনারটেক লিঃ ঢাকা, এম আর লুব বগুড়া, শাহিন এন্টারপ্রাইজ ঢাকা, বাংলাদেশ লুব্রিকেন্টস লিঃ ঢাকা, ইয়ভিং লুব প্রাঃ লিঃ ঢাকা, পপুলার পেট্রোকেমিক্যালস ঢাকা, মেসার্স উত্তরা ট্রেডার্স ঢাকা, ট্রেড সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনাল চট্টগ্রাম, নাভানা লিমিটেড ঢাকা, পেট্রোপ্রোডাক্টস বাংলাদেশ লিঃ ঢাকা, মেসার্স হক লুবস ঢাকা, শেল বাংলাদেশ মার্কেটিং লিঃ ঢাকা, মেসার্স আর আর অটোমোবাইল ঢাকা এবং ওরিয়েন্টাল অয়েল কোং লিঃ ঢাকা।