রাজধানীতে গত কয়েক মাসে উদ্ধার হওয়া ৫ নারীসহ ২২ বেওয়ারিশ লাশ নিয়ে মহাবিপাকে আছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এদের মধ্যে অধিকাংশই হত্যাকাণ্ডের শিকার। পুলিশ নগরীর বিভিন্ন নির্জন এলাকা, রাস্তার পাশ, হাসপাতাল অথবা ডোবা থেকে এসব লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। ময়না তদন্তে হত্যাকাণ্ডের আলামত পাওয়া পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। কিন্তু পুলিশ শত চেষ্টা করেও দীর্ঘদিন পরও এদের পরিচয় জানতে পারেনি। ময়না তদন্তে জানা যায়, এদের অধিকাংশকেই শ্বাসরোধ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এসব লাশ বেওয়ারিশ হিসাবে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, প্রত্যেকটি লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় মামলার তদন্ত এগুচ্ছে না। তবে প্রতিটি লাশের ছবি ও আলামত (কাপড় চোপড়) সংরক্ষিত রয়েছে। পুলিশ নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হতে ও স্বজনদের খোঁজে দেশের বিভিন্ন থানায় মেসেজ পাঠিয়েছে। কিন্তু কোন ধরনের তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি মহানগর পুলিশ নিহতদের ছবি ডিএমপির ওয়েব সাইটে প্রকাশ করেছে। যাতে নিহতদের স্বজনরা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, নিহতদের পরিচয় না পাওয়া পর্যন্ত কোন ভাবেই জানা সম্ভব নায় কী কারণে তারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কারা তাদের ঘাতক।
শাহবাগ এলাকা থেকে গত ২৩ মার্চ উদ্ধার করা হয় অজ্ঞাত এক যুবককে। তার বয়স ২৫ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। পরনে ছিল লাল গেঞ্জি। মারাত্মক আহত ও অচেতন অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয়েছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। একই থানা এলাকা থেকে গত ২৫ মার্চ আরও এক যুবকের বিকৃত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ১৬ মার্চ পল্লবী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় এক তরুণীকে। বয়স ১৮ থেকে ২০ এর মধ্যে। তরুণীর পরনে ছিল নীল কামিজ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানা পুলিশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে এক বৃদ্ধার লাশ। কে বা কারা রাজধানীর কোন এক এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় ভর্তি করেছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। বৃদ্ধার পরনে ছিল শাদা ফুল শার্ট। পুরনো ঢাকার চকবাজার এলাকা থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি উদ্ধার করা হয় তিরিশোর্ধ্ব এক নারীর লাশ। গত ১১ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ উদ্ধার করে এক যুবকের লাশ। বয়স ২২ থেকে ২৪ এরমধ্যে। গোলগাল মুখমণ্ডল, পরনে কালো শার্ট। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয়েছিল।
গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর পুরনো ঢাকার চকবাজার এলাকা থেকে উদ্ধার হয় চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির লাশ। তার মুখে কালো দাড়ি। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। গত বছরের ১৭ নভেম্বর পল্টন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় নাসির নামে এক বৃদ্ধের লাশ। মুখে সাদা দাড়ি। পকেটে থাকা একটি চিকিত্সা পত্র থেকে পুলিশ তার নাম জানতে পারে। একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর শাহবাগ থানা পুলিশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির লাশ। মুখে কালো দাড়ি। আহত ও অচেতন অবস্থায় রাজধানীর কোন এক এলাকা থেকে কেউ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। গত বছর ১৫ ডিসেম্বর একই ভাবে শাহবাগ থানা পুলিশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে বিশোর্ধ্ব এক যুবকের লাশ। গোলগাল মুখমণ্ডল। গত ১১ ডিসেম্বর শাহবাগ থানা একই হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে পঞ্চাশ বছর বয়সী এক ব্যক্তির লাশ। পরনে ছিল সাদা কালো চেক শার্ট। এর একদিন পর শাহবাগ থানা পুলিশ উদ্ধার করে পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির লাশ। মুখো চাপদাড়ি। ১০ ডিসেম্বর উদ্ধার করে পঞ্চাশ বছর বয়সী এক মহিলার লাশ।
গত বছর ১২ আগস্ট ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় এক যুবকের লাশ। বয়স ২২ থেকে ২৫ এর মধ্যে। পরনে কালো গেঞ্জি। গোলগাল মুখমণ্ডল। একই বছরের ২২ আগস্ট তুরাগ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির লাশ। মুখে চাপদাড়ি। পরনে ছিল ফুল শার্ট। একই থানা এলাকা থেকে গত বছর ৬ আগস্ট উদ্ধার করা হয় এক ব্যক্তির গলিত লাশ। একই থানা এলাকা থেকে গত বছরের ২৩ জুলাই উদ্ধার করা হয় পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির লাশ। গোলগাল মুখমণ্ডল। এছাড়া একই এলাকা থেকে উদ্ধার হয় ফুলশার্ট পরিহিত এক যুবকের লাশ। একই বছর জুলাই মাসে ভাসানটেক এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় এক ব্যক্তির গলিত লাশ। গত বছরের ১৬ মে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় পঁচিশোর্ধ্ব বস্তা ভর্তি এক নারীর লাশ। একই থানা এলাকা থেকে গত বছর ২৪ এপ্রিল উদ্ধার করা হয় পঁচিশোর্ধ্ব এক যুবকের লাশ। পরনে ছিল নীল শার্ট। এছাড়া গত ডিসেম্বর মাসে বনানী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় পঁচিশ বছর বয়সী এক নারীর লাশ। লাশের গায়ে জড়ানো ছিল গোলাপী রঙের ওড়না। গোলগাল চেহারার এ নারীর কপালে ছিল কালো টিপ।
