সৃষ্টিশীল একজন

আপডেট : ০১ জুন ২০১৪, ২০:১১
নাটক লেখা, পরিচালনাসহ নাটকের সাথে জড়িত সব বিষয়ে পারদর্শী তিনি। বিতর্ক, আবৃত্তি ও মঞ্চ নাটকে অনেক আগেই প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন। এরপর নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশে কাজ করেছেন টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে। সেখানেও সকলে তাকে সানন্দে গ্রহণ করেছে। মুগ্ধ হয়েছে তার কাজ দেখে। তিনিও সবসময় পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সৃষ্টিশীল কিছু কাজ সকলকে উপহার দেওয়ার জন্য। বিনয়ী ও বন্ধুপরায়ণ মানুষটির নাম শিমুল সরকার। তাকে নিয়ে লিখছেন আহসান রনি তার জন্ম কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ শহর কুষ্টিয়া জেলাতে বেড়ে উঠেছেন তিনি। কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাসের পর রাজশাহীর বাঘা কলেজে এইচএসসি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ করেছেন। স্কুলজীবন থেকেই কবিতা লেখায় হাতেখড়ি তার। কলেজজীবনে কবিতা লেখার পাশাপাশি আবৃত্তি সংগঠক হিসেবে নিয়মিত কাজ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে তুখোড় থিয়েটার কর্মী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিক, বক্তা এবং অভিনেতাদের মধ্যে সেরা। বিশ্ববিদ্যালয় এবং আবাসিক হল বিতর্ক দলের দলনেতা হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ১৯৯৬ সালে নাটকে প্রথম যুক্ত হন ‘সমকাল নাট্যচক্র’-এর মাধ্যমে। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে নিজেই তৈরি করেন নতুন একটি নাট্যদল ‘নাট্যদুয়ার’। নাট্যদুয়ার এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১১টি শাখায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ৩০টি নাটকের ৪০০টির অধিক শো মঞ্চে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। ১০টি নাটক ট্রেনিং ওয়ার্কশপের পাশাপাশি চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা, প্রযোজনা, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ কৌশল, কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিপ্লোমা ছাড়াও থিয়েটার কেন্দ্রিক বহু ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। তারপর, টেলিভিশন মিডিয়াতে পথচলা শুরু বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে অতিথি চিত্রগ্রাহক হিসেবে যোগদানের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স নাটক পরিচালনা ও লেখা শুরু করেন তিনি। ২০০৫ সালে বরেণ্য নাট্যজন ম হামিদ ও চিত্রগ্রাহক সমীর কুশারীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান তাকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের অতিথি চিত্রগ্রাহকের মর্যাদায় কাজের সুযোগ দেওয়া হয়। ২০০৭ সাল প্রথম টিভি নাটক লেখা ও পরিচালনার কাজে হাত দেন তিনি। প্রথম নাটকটি ‘সায়াহ্নে সূর্যোদ্বয়’ ফরিদুর রেজা সাগরের খুব পছন্দ হয় এবং সেটি চ্যানেল আইয়ের পর্দায় প্রচারিত হয়। এই ছিল মিডিয়াতে তার পথচলার শুরু। এরপর তিনি অনেকগুলো নাটক, টেলিছবি, ধারাবাহিক পরিচালনা করেছেন। তার পরিচালিত ‘মামার হাতের মোয়া’ নামক একটি ধারাবাহিক নাটক এখন একুশে টিভিতে চলছে। এর মাঝেই দৈনিক মুক্তকণ্ঠ, যুগান্তর, ভোরের কাগজ এবং সাপ্তাহিক বিচিত্রাতে নিয়মিত লেখালেখি করেছেন তিনি। তিনি জানালেন, নাট্য রচনা ও নির্মাণের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। তাছাড়া নতুন একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান বিভাগের সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। তার লক্ষ্য বাংলাদেশে একটি নতুন ধরনের টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবে এই চ্যানেলটিকে প্রতিষ্ঠা করা। ’ তার মতে, নাটকের পেশায় আসতে হলে শিখতে হবে আগে। এর সাথে দরকার ধৈর্য ও পরিশ্রম। তিনি এই পেশায় তরুণদের প্রত্যাশা করেন কারণ নাটক আসলে তরুণদেরই কাজ। তরুণদেরকেই এগিয়ে নিতে হবে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রকে। নতুন মেধার খুব দরকার। কীভাবে ভালো করা যায় এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘শুধু এই পেশা না যেকোনো পেশাতেই আপনি ভালো করতে চাইলে দরকার সঠিক জ্ঞান, ধৈর্য এবং পরিশ্রম। তাহলে আপনি সফল হবেনই।’