শর্টফিল্ম নির্মাতা

আপডেট : ০১ জুন ২০১৪, ২০:১১
মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি কাহিনীকে প্রকাশ করা হয় শর্ট ফিল্মের মাধ্যমে। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে শর্টফিল্ম অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি কাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সৃজনশীল ক্ষেত্রে প্রজন্ম তাদের মেধা এবং মননের দৈর্ঘ্যটা বাড়িয়ে দর্শকদের উপহার দেয় স্বল্প সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গল্প। আধুনিক সময়ের সাথে গল্পের চিত্রায়ণেও পরিবর্তন আসছে। মেধাবী চিত্রায়ণের ফলে একটি সাধারণ গল্পও হয়ে উঠে অসাধারণ। কিন্তু শর্ট ফিল্ম নির্মাণ সহজ বিষয় নয়। তবু প্রজন্ম এই পেশায় অনেক ভালো করছে। দেশসেরা কয়েকজন শর্টফিল্ম নির্মাতা জানালেন এই পেশা ও প্রজন্মের কাছে তাদের প্রত্যাশার কথা। লিখেছেন আহসান রনি পলাশ রসুল একটা চিত্রকে সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দী করাই হলো শর্টফিল্মের কাজ। সুন্দর করে বলতে হয় চলমান চিত্রের গল্প! এখন তরুণ নির্মাতারা নতুন নতুন চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ করছে বলেই কাজের মান বাড়ছে। তার প্রত্যাশা তরুণ প্রজন্ম আরও গুরুত্বের সাথে শর্টফিল্ম নির্মাণ করবে এবং শর্ট ফিল্ম নির্মাণের আগে তাদের অনেক বেশি পড়াশোনা করে নিতে হবে। নতুন নতুন তথ্য-উপাত্ত শর্ট ফিল্মের মাধ্যমে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করাটা খুব জরুরি। অনেকে কিছু স্থিরচিত্র আর তথ্যের আলোকে নির্মিত তথ্যচিত্রকে অনেক সময়ই প্রামাণ্যচিত্রের সাথে মিলিয়ে ফেলেন। কিন্তু শর্ট ফিল্ম আলাদা। এই আলাদা জিনিসটা বুঝে, নিজের মধ্যে ধারণ করে তরুণ প্রজন্ম শর্ট ফিল্ম তৈরিতে এগিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। কাজের প্রতি আরও ভালোবাসা নিয়ে তারা এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা তার। আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করলে শতভাগ সম্ভাবনা রয়েছে সেটাতে সফলতার দেখা মেলার। আর নিজেও প্রত্যাশা করেন ভালো ভালো কাজ করার। তার প্রত্যাশা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকবে শর্টফিল্ম এবং সেই প্রত্যাশা পূরণ করবে নবীন শর্টফিল্ম নির্মাতারাই। ফরিদ আহমদ পেশা হিসেবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণকে বেছে নেওয়ার সুযোগ দেশে এখনও তৈরি হয়নি। তবে আত্মপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে এ ক্ষেত্রটিকে বেছে নেওয়া যেতে পারে। প্রযুক্তির কল্যাণে কাঙ্ক্ষিত চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। কেবল সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নয়, উত্পাদন প্রক্রিয়ায় চলচ্চিত্রকে যুক্ত করতে পারলে পেশা হিসেবে চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ তৈরি হবে। বাংলা চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিয়ে গেছে তরুণরাই। কোনোরকম পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই আব্দুর জব্বার খান ১৯৫৩ সালে প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন বলেই ঢাকায় এফডিসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জহির রায়হানের মতো তরুণের হাত ধরেই তত্কালীন ঢাকায় পাকিস্তানের প্রথম রঙিন ছবি ‘সঙ্গম’ (১৯৬৪) এবং প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’ (১৯৬৫) নির্মিত হয়েছিল চলচ্চিত্র চর্চায় তরুণরা এগিয়ে এসেছিল বলেই। তিনি প্রত্যাশা করেন চলচ্চিত্রের নতুন নতুন সম্ভাবনার প্রকাশ ঘটাতে, নবীনতম এ শিল্পমাধ্যমকে আরও বেশি করে উপস্থাপন করতে তরুণরাই এগিয়ে আসবে। জাহিদ গগণ আমাদের দেশে পেশা হিসেবে শর্ট ফিল্ম খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। চলচ্চিত্রের একটা জায়গা আছে। নাটকের একটা ভালো বাজার আছে। কিন্তু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলো শুধু ফেসবুক, ইউটিউবে কিছু বন্ধুকেই দেখানো যায়। খুব বড়জোর কিছু ফেস্টিভ্যালে নিয়ে যাওয়া যায়। এগুলো যদি দর্শককে দেখাতেই না পারা যায় তাহলে এর সার্থকতা খুব বেশি থাকে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রশ্ন ছিল, নতুন প্রজন্মের কাছে তার প্রত্যাশা কি, উত্তরে জাহিদ বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম আসবে তার শেকড়ের টান থেকে। যারা চলচ্চিত্র বানাবে, তাদের জন্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ কাজের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। তাছাড়া নিজস্ব বক্তব্যকে ভিজ্যুয়ালি দেখানোর জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি প্রত্যাশা করেন, বাংলাদেশিদের তৈরি শর্টফিল্ম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে। তিনি তাই প্রত্যাশা করেন সঠিক শিক্ষা অর্জন করে প্রজন্ম বিশ্বমানের শর্ট ফিল্ম নির্মাণ করবে এবং তা বিশ্ব দরবারে আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।