সেনাপ্রধানের হুমকি উপেক্ষা করে ব্যাংককে বিক্ষোভ

আপডেট : ০১ জুন ২০১৪, ২৩:০৮
থাই সেনাপ্রধান দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রতি কঠোর পরিণতির হুমকি দিলেও তা উপেক্ষা করে বিক্ষোভে সামিল হচ্ছে গণতন্ত্র প্রেমীরা। গতকাল রবিবার অশোক ইন্টারসেকশনের টার্মিনাল-২১ একদল বিক্ষোভকারী জড়ো হয়। তারা জান্তাবিরোধী ‘থ্রি ফিঙ্গার’ প্রতীক প্রদর্শন করে এবং বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। গতকাল দুপুর থেকেই তারা বিভিন্ন গ্রুপে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তারা সেনা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করে। অনেকে এক হাতে মুখ আটকে ধরে বোঝানোর চেষ্টা করে সামরিক সরকার দেশবাসীর মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করেছে। অন্য হাতে রাইফেলের আদলে মাথায় তাক করে রাখে। ৬৬ বছর বয়সী এক নারী বিক্ষোভকারী বলেন, আমি এখানে এসেছি কারণ আমি গণতন্ত্র ভালোবাসি। আমি ক্যু বিরোধী। আমরা দেশে দ্রুত নির্বাচন ও সেনা সরকারের বিদায় চাই। কিন্তু সেনাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। এটা একুশ শতক। এই যুগেও সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করতে পারে এটা অবিশ্বাস্য। কিন্তু থাইল্যান্ডে এটা ঘটেই চলেছে। এদিকে, ব্যাংকক ও আশেপাশে বিক্ষোভ দমন করার জন্য অন্তত ৬ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে বিক্ষোভের অন্যতম জনপ্রিয় স্থান ডেমোক্রেসি মনুমেন্ট দখল করে রেখেছে সেনাবাহিনী। এক থাই কর্মকর্তা এ খবর জানান। সেনাবাহিনী গত ২২ মে বেসামরিক সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে রাজধানীতে প্রতিদিনই ছোট অথচ সোচ্চার বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেনা প্রধান প্রায়ুথ চ্যান-ওচা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, বিক্ষোভকারীদের এমনকি তাদের পরিবারকেও সামরিক আইনে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। তবে এ পর্যন্ত এ নিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও বল প্রয়োগ করা হয়নি। বিক্ষোভকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে রবিবার ব্যাংককে বেশ কয়েকটি সমাবেশের আয়োজন করেছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে রাজপথে নিরাপত্তা বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। কোনো ধরনের জমায়েত ঠেকাতে অনেক সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এদিকে, ব্যাংককে ভ্রমণের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে ৬২ টি দেশ। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, ইতালিসহ ১৯টি দেশ রেড এলার্ট জারি করেছে। অপরদিকে, কানাডা, মেক্সিকো, ব্রাজিলসহ ৪৩ টি দেশ সাধারণ এলার্ট জারি করেছে।