নারায়ণগঞ্জে ৭ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নূর হোসেনের টার্গেট ছিল কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম। তার সঙ্গে এলাকার আধিপত্য, টেন্ডার, চাঁদাবাজি, পরিবহন সেক্টরের চাঁদাবাজি, আদমজী ইপিজেড এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চরম দ্বন্দ্ব ছিল নূর হোসেনের। পরবর্তীতে কাউন্সিলর নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপনও নূর হোসেনের টার্গেট হয়ে পড়ে। নজরুলের বন্ধু স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা স্বপন দলীয় সমর্থন, বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়ে নজরুলকে সহযোগিতা করে আসছিলেন। একারণে নজরুলের সঙ্গে স্বপনকে হত্যা করার জন্য নূর হোসেন পরিকল্পনা করেন। নূর হোসেনের ধারণা ছিল, নজরুল ও স্বপনকে দুনিয়া থেকে বিদায় করলে সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার পুরোটা তার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এর ধারাবাহিকতায় নূর হোসেন পুরো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকাও দখল করে নেবেন। নূর হোসেন তার জলসাগর নামক প্রমোদ কেন্দ্র ও আটি এলাকার রং মহলে একাধিক বৈঠকে কিলারদের সঙ্গে এমন পরিকল্পনা করেছিলেন। এমন তথ্য জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার নূর হোসেনের দুই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তবে অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার ও তার গাড়ি চালক ইব্রাহীম হোসেন টার্গেট ছিলেন না। এমনকি কাউন্সিলর নজরুলকে বহনকারী গাড়ির চালক জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ঘটনার দিন একই গাড়িতে সঙ্গে থাকা তাজুল ইসলামও টার্গেট ছিলেন না। তবে তাজুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম প্রতিহিংসার স্বীকার হতে পারেন নূর হোসেনের। এরা নজরুলের সঙ্গে সবসময় থাকতেন। আর চালক জাহাঙ্গীর হোসেন পরিস্থিতির শিকার। কবি ও সাহিত্যিকমনা প্রবীণ আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক কোন অবস্থায় নূর হোসেনের টার্গেট ছিলেন না। তাহলে তাকে ও তার গাড়ি চালককে নজরুলসহ ৫ জনের সঙ্গে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো কেন? এ প্রশ্নের উত্তর গতকাল রবিবার পর্যন্ত তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ মেলাতে পারছেন না। তবে তদন্ত কর্তৃপক্ষের কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে আসছে যে, চন্দন সরকার কাউন্সিলর নজরুলের মামলার কোন আইনজীবী নন এবং তার সঙ্গে তেমন যোগাযোগও ছিল না। নজরুলসহ ৭ জনকে অপহরণের সঙ্গে জড়িত কেউ কেউ সরকার বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। একটি গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের কার্যক্রম অনুসন্ধান করে এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। নজরুলের সঙ্গে আইনজীবী চন্দন সরকারকে হত্যা করলে নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের আদালত উত্তপ্ত থাকবে। আন্দোলন-সংগ্রাম চলবে এবং বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হবে। সাধারণ মানুষ সরকারের উপর ক্ষিপ্ত হবে। এ ধারণা নিয়েই সরকার বিরোধী একটি মহলের ইন্ধনে অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার ও তার গাড়ি চালককে একই সঙ্গে অপহরণ করে নিয়ে লাশ গুম করা হয়। তদন্ত কর্তৃপক্ষের একাধিক কর্মকর্তা এ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন বলেন, কাউন্সিলর নজরুল ও তার সঙ্গে থাকা কারো সঙ্গে অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের যোগাযোগ নেই। তিনি কাউন্সিলর নজরুলের মামলার কোন আইনজীবীও নন। তবে নারায়ণগঞ্জ লিং রোডের শিবু মার্কেটের সামনে র্যাব পরিচয়ে নজরুলসহ ৫ জনকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি দেখেছেন। মোবাইল দিয়ে ছবি ধারণ করেছেন। এ কারণে হয়তো অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার ও তার চালককে নৃশংসভাবে নজরুলের সঙ্গে হত্যা করে লাশ গুম করা হতে পারে কিংবা অন্য কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে তিনি জানান। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, নজরুল ও অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারসহ ৭ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হত্যাকাণ্ডের মোটিভ দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
