নিজেকে নিয়ে ভাবছেন না দান্তে

আপডেট : ০২ জুন ২০১৪, ২১:৩৯
বায়ার্ন মিউনিখের ব্রাজিলিয়ান তারকা দান্তে বলেছেন, ক্লাবের মতো জাতীয় দলেও রক্ষণ কেন্দ্রবিন্দু হবার সুযোগ না পেয়ে মোটেই হতাশ নন তিনি। ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জনের দিকে মনোযোগ দেয়ার কোন সুযোগ নেই বলেও জানান এই সেন্টার ব্যাক। এদিকে, ক্লাব সতীর্থ মারিও মান্ডজুকিচের অনুপস্থিতি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ব্রাজিলকে বাড়তি কিছু সুবিধা এনে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ২০১২-১৩ মৌসুমে বায়ার্নের ছয়টি শিরোপার পাশাপাশি গত মৌসুমেও ব্যাভারিয়ানদের লিগ এবং কাপ জিততে বড় ভূমিকাই ছিল দান্তের। পেপ গার্দিওলার দলে রক্ষণ কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ফলাফল হিসাবেই ডাক পান লুইস ফেলিপে স্কলারির দলে। তবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দান্তের ভূমিকাটা অনেকটাই ভিন্ন। ডেভিড লুইসকে অন্য পাশে নিয়ে রক্ষণ মধ্যমণি অধিনায়ক থিয়াগো সিলভাকে সঙ্গ দেয়াই হবে জাতীয় দলে তার কাজ। তবে বায়ার্ন আর ব্রাজিলের জার্সির পার্থক্যটা বুঝতে মোটেই সমস্যা হচ্ছে না দান্তের। বিশ্বকাপের মতো আসরে নিজের ভাবনা বা ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রাধান্য দেয়ার সুযোগ খুব সামান্য উল্লেখ করে দান্তে বলেন, ‘আমাদের ব্যক্তিগত লক্ষ্যগুলো পাশে সরিয়ে সামনে তাকাতে হবে। প্রত্যেকের ভাবতে হবে কিভাবে ব্রাজিলের মানুষের জন্য শিরোপা জেতা যায়। আমাদের আসলে কারো কাছে নির্দিষ্ট কিছুর জন্য জবাবদিহি করার নেই। একটি কথাই শুধু ভাবার আছে। আমাদের সেলেকাওদের জন্য লড়তে হবে। আর যদি থিয়াগো সিলভা এবং লুইজের কথা বলেন, আমি বলবো প্রাপ্যের চাইতে কম মূল্যই দেয়া হচ্ছে তাদের। কারণ, এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা কয়েকজন ডিফেন্ডারের মধ্যে তারা দুজন। তারা নিজেদের প্রমাণ করেই দলে জায়গা করে নিয়েছে। আমার কাজ অনুশীলন করে যাওয়া।’ এদিকে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ১২ জুনের ম্যাচে থাকছেন না বায়ার্নের ক্রোয়াট তারকা মান্ডজুকিচ। গত বছরের নভেম্বরে আইচল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাছাইপর্বের ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হওয়ায় ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলা হচ্ছে না ২৮ বছর বয়সী এই তারকার। তবে মান্ডজুকিচের অনুপস্থিতিতেও ক্রোয়েশিয়া যথেষ্টই শক্তিশালী বলে সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন দান্তে। যদিও, ১২ জুনের প্রতিপক্ষ দলটি তাদের বায়ার্ন তারকার ঘাটতি মেটাতে হিমশিম খাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দান্তে বলেন, ‘আমার মনে হয় ক্রোয়েশিয়া মান্ডজুকিচের অভাব বোধ করতে যাচ্ছে। তার মতো একজন খেলোয়াড়ের বিকল্প খুঁজে বের করাটা আসলে কঠিনই বটে। সে দারুণ লড়াকু মানসিকতার। তবে সে যদি না ও থাকে তবু আমাদের মোটেই অসতর্ক হওয়া চলবে না।’ ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে এরই মধ্যে সতীর্থদের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করে দিয়েছেন জানিয়ে দান্তে বলেন, ‘আমরা ক্রোয়েশিয়া বিষয়ে কথা বলছি। যদিও সেটা খুব বেশি নয়। মার্সেলো সব সময়ই বলে (লুকা) মডরিচের কথা। সে প্রান্ত বদল করে খেলতে পছন্দ করে। তাছাড়া তার খেলা দারুণ গতিশীল।’ প্রতিপক্ষকে ভাল ভাবে বোঝার জন্য কোচ লুইস ফেলিপে স্কলারিই এই চর্চা শুরু করেছেন জানিয়ে ৩০ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান বলেন, ‘ফেলিপাও একদিন আমাদের প্রতিপক্ষকে নিয়ে ভাবার উত্সাহটা দিয়েছিলেন। এই ধরনের টুর্নামেন্টে এই আলোচনাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তাদের শক্তিমত্তা এবং দুর্বলতা জানি। যখন সময় আসবে এই বিষয়টাই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।’ দলের গত রবিবারের অনুশীলন নিয়ে এরই মধ্যে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন স্কলারি। তবে কোচের এই বিরূপ মন্তব্যকে ইতিবাচক হিসাবেই নিচ্ছেন দান্তে। ব্রাজিলের পক্ষে ১১ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা দান্তে বলেন, ‘যদি বস বলেন তিনি আমাদের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন, তাহলে সে বিষয়ে আমার কিছু বলা শোভা পায় না। তবে নিজেদের মধ্যে এই আলোচনা করাটা জরুরী। নিজেদের শুধরে নেয়া এবং মাঠে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেটা নিশ্চিত করার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিশ্চিত এতে খেলোয়াড়রাও খুশি।’ এদিকে, ব্রাজিলের জার্সি গায়ে নয়, ভিনসেন্ট কোম্পানি-রোমেলো লুকাকুদের সাথে এবার বেলজিয়ামের জার্সি গায়ে তাকে বিশ্বকাপে দেয়া যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল বলে জানান দান্তে। তবে পাঁচ বছর আগে বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করায় কোন দুঃখ নেই বলেই জানালেন তিনি। দান্তে বলেন, ’২০০৯ সালের দিকে আমি বেলজিয়ামের কাছ থেকে একটা প্রস্তাব পেয়েছিলাম। তবে সত্য কথাটা হচ্ছে, আমি কখনোই অন্য দলের হয়ে খেলতে চাইনি। আমার হূদয়ই আমাকে বলছিল অঙ্কুরেই নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দেয়ার চাইতে সেটা সার্থক করার চেষ্টা করে যাও।’ গোল ডট কম অবলম্বনে। গোল ডট কম।