স্মৃতিতে ‘পানেনকা পেনাল্টি’

আপডেট : ০২ জুন ২০১৪, ২১:৪২
২০ জুন ১৯৭৬, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ৯০ মিনিটে ২-২ গোলে সমতায় পশ্চিম জার্মানী ও চেকোস্লাভিয়ার মধ্যকার ম্যাচ। অতিরিক্ত সময়ে আবারও সেই একই চিত্র। এরপর পেনাল্টি শুট আউট। একদম শেষ মুহূর্তে গিয়ে থামলো লড়াই! শেষ পেনাল্টি নিতে এলেন অ্যান্টোনিন পানেনকা। জার্মান গোলরক্ষক সেপ মেয়ারকে সে ফ হতভম্ব বানিয়ে দিয়ে বল আলতো ছোঁয়ায় তুলে দিলেন মাথার উপর দিয়ে। বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়া গোলরক্ষকের সঙ্গী হল কেবল হতাশা। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মত কোন বড় টুর্নামেন্ট জিতে ইতিহাস গড়লো চেকোস্লাভিয়া। সেই থেকে ‘পানেনকা-পেনাল্টি’ চলে গেছে ইতিহাসের পাতায়। এরপর জিনেদিন জিদান কিংবা ফ্রান্সেসকো টট্টিদের কল্যাণে গোলরক্ষকরা একইভাবে বোকা হয়েছেন বেশ কয়েকবার। সেই গোলরক্ষকদের তালিকায় সর্বশেষ যোগ হয়েছেন ইংলিশ গোলরক্ষক জো হার্ট। ২০১২ ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির গোলরক্ষককে সেই দুঃস্বপ্ন উপহার দিয়েছিলেন আন্দ্রে পিরলো। দুই বছর বাদে আরও বড় এক টুর্নামেন্ট। ‘ডি’ গ্রুপে ইংল্যান্ডের সামনে প্রথমেই অপেক্ষা করছে ইতালির বাধা। জুভেন্টাসের প্লে মেকার পিরলো কি এবারও একই কাণ্ড ঘটাবেন? পৃথিবীর কাছে সেবার কিয়েভের ঘটনা যতই বিস্ময়কর হোক না কেন জো হার্ট দেখছেন খুব সাধারণ ভাবেই, ‘হ্যাঁ ও গোল করেছিল। কিন্তু সেই ঘটনা আমাকে খুব বেশি লজ্জা দিয়েছিল সেটা আমি বলবো না। ও চেষ্টা করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত বলটা জালে জড়িয়ে যায়। এই পর্যন্তই।’ তবে, পিরলো তার আত্মজীবনী আই থিঙ্ক দেয়ারফোর আই প্লেতে সেই মুহূর্তের বর্ণনা করেছেন একটু ভিন্নভাবে। জো হার্টের হাবভাব থেকেই নাকি চিপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি, ‘আমি জো হার্টকে দেখে একদম শেষ মুহূর্তে চিপ করার সিদ্ধান্ত নেই। রান আপ শুরু করার সময়ও আমি কি করবো কিছু ভেবে রাখিনি। এরপরই আমি ইংলিশ গোলরক্ষকের নড়াচড়া দেখি। ওটা ছিল তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত, আগে থেকে কোন পরিকল্পনা ছিল না।’ পিরলোর সেই ঝলক এরপর আর দেখা যায়নি। আত্মজীবনীতে তার ব্যাখ্যাটাও বেশ যুত্সই দিলেন বর্ষীয়ান এই মিডফিল্ডার, ‘আমি আমার সুযোগগুলো শুধু কাজে লাগিয়েছি। চেয়েছি শতভাগ সফল হতে। সেই ব্যাপারটার মধ্যে লোক দেখানো কোন ঘটনা ছিল না — আসলে এটা আমার স্টাইলের মধ্যে পড়ে না।’ মুখে বলুন আর নাই বলুন এবার তাই প্রথম ম্যাচেই জো হার্টের স্মৃতিতে ভাসবে দুই বছর আগের ঘটনা। মুখে অবশ্য ২৭ বছর বয়সী গোলরক্ষক দলে নিজের জায়গা ধরে রাখার কথাটা বেশ বলিষ্ঠভাবেই জানালেন। ২৭ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ের ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছেন ওয়েস্ট ব্রুমউইচ অ্যালবিয়নের বেন ফস্টার ও সেল্টিকের ফেজার ফ্রোস্টার। এই প্রসঙ্গে হার্ট বলেন, ‘আমাদের বিশ্বমানের আরও দুইজন গোলরক্ষক আছে। তারা অসাধারণ প্রতিভাধর। আমি তাই জানি, খুব শক্ত পরীক্ষার মধ্য দিয়েই আমাকে যেতে হবে। তবে, এটা আমাদের জন্যই ভাল। দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকাটা ভাল। লড়াইটা আরও উপভোগ্য হবে।’