দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কি না অর্জন করেছেন পেলে। জাতীয় দল ব্রাজিলের হয়ে চৌদ্দ বছরের ক্যারিয়ারে ৯২ ম্যাচে গোল করেছেন ৭৭টি! তিনবার জিতেছেন বিশ্বকাপ (১৯৫৮, ১৯৬২ এবং ১৯৭০)! ক্লাব ফুটবলে গোল করেছেন এক হাজারেরও ওপরে। ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের হয়ে ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে দুটি কোপা লিবার্তেদোরেসসহ শিরোপা এনে দিয়েছেন ২৬টি! সেরা হতে আরো কিছুর প্রয়োজন আছে কী?
তর্কবাজ লোকেরা তখন নানান যুক্তি দাঁড় করিয়ে বলেন, এই সময়ে জন্মালে হয়তো পেলে সেরা হয়ে উঠতে পারতেন না। এবার সেই নিন্দুকদেরও জবাব দিলেন পেলে।
স্প্যানিশ সংবাদপত্র এল পেইসকে এই কিংবদন্তী ফুটবলার বলেন, ‘আমি যদি এখন খেলতে পারতাম; আজকের ফুটবলারদের মতোই শারীরিকভাবে ফিট থাকতাম তাহলে এখনো আমি সবার সেরাই থাকতাম। এর কারণ হল—ঈশ্বর আমাকে উপহার হিসেবে এই ক্ষমতাটা দিয়েছেন।’
নিজেকে জার্মান সঙ্গীতজ্ঞ বেথোবানের সঙ্গে তুলনা করে পেলে বলেন, ‘আপনি বেটেফেনকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন; কী অসাধারণ মিউজিক তিনি পিয়ানো দিয়ে তৈরি করতেন। এই অসাধারণ মিউজিকগুলো অন্য যন্ত্র দিয়েও একইভাবে বাজাতে পারতেন তিনি।’
১৯৫৮ সালেই প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন পেলে। বয়স তখম মাত্র ১৭। প্রথম আসরেই সফল তিনি। ঐ বিশ্বকাপের স্মৃতি হাতড়িয়ে বিশ্বকাপ আসরে সর্বকালের কনিষ্ঠ ফুটবলার পেলে বলেন, ‘আমার বয়স তখন মাত্র ১৭। কেবল খেলার জন্যই খেলতে চেয়েছিলাম আমি। ঐ বিশ্বকাপে আমার এর চেয়ে বেশি কোনো দায়িত্ব ছিল বলে মনে হয়নি।’
বেশিরভাগ সময়েই কিংবদন্তী পেলেকে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের সঙ্গে বেশি তুলনা করা হয়। ডি স্টেফানো, সিভোরি, ম্যারাডোনার পর সাবেক এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের সঙ্গে প্রায়ই মেসির তুলনাও করা হয়।
আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের সঙ্গে নিজের তুলনার ব্যাপারে পেলে বলেন, ‘আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই, তাহলে দেখা যাবে মানুষ সবসময় আমাকে আর্জেন্টাইনদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। প্রথমে আমাকে তুলনা করা হল ডি স্টেফানোর সঙ্গে, এরপর সিভোরির সঙ্গে (ওমর সিভরি), এরপর আমাকে তুলনা করা হল ম্যারাডোনার সঙ্গে। এখন তুলনা করা হচ্ছে মেসির সঙ্গে। এ ক্ষেত্রে আমার নির্দেশনা হল— সেরা আর্জেন্টাইন কে এ ব্যাপারে আপনারা আগে সিদ্ধান্ত নিন। যখন আপনারা এটা জানতে পারবেন, তখনই আমরা দেখতে পারবো কে বিশ্বের সেরা?’
