ভারতে দীর্ঘ পাঁচ দশকের আন্দোলন-সংগ্রামের পর অন্ধ্রপ্রদেশ ভেঙ্গে নতুন রাজ্য তেলেঙ্গানার যাত্রা শুরু হলো। রাজ্যটির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গতকাল সোমবার সকালে শপথ নিলেন তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির (টিআরএস) নেতা কে চন্দ্রশেখর রাও। একই সঙ্গে শপথ নিয়েছেন তাঁর মন্ত্রিসভার অন্য ১১ সদস্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক টুইটার বার্তায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রবিবার মধ্যরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে বিভক্ত হয়ে দেশের ২৯তম রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় তেলেঙ্গানা। আনন্দে ওই দিন সন্ধ্যা থেকে উত্সব পালিত হয়। সকালে অখণ্ড অন্ধ্রপ্রদেশের তেলেঙ্গানা অংশ থেকে রাষ্ট্রপতির শাসন তুলে নেওয়া হয়। তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নেন ইএসএল নরসিংহ। তিনি অখণ্ড অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্যপাল ছিলেন। এখন থেকে দুই রাজ্যের দায়িত্বই সামলাবেন তিনি।
চন্দ্রশেখরসহ তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল নরসিংহ। এদের মধ্যে মুখমন্ত্রীর ছেলে কে টি রামা রাও এবং ভাইপো টি হরিশ রাও রয়েছেন। অন্য দিকে অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে শপথ নেবেন তেলুগু দেশম পার্টির (টিডিপি) নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু। গত মাসের নির্বাচনে টিআরএস ১১৯ টি আসনের মধ্যে ৬২টি আসনে জয় পায়। টিআরএস কংগ্রেসের অন্যতম শরীক। এই দলটিই রাজ্যের পৃথক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়। নতুন মুখ্যমন্ত্রী গতকাল জনগণের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন। গতকাল রাজ্যের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের পৃথক আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি আলোচিত হয়।
নতুন রাজ্যের জন্মলগ্নের সূচনাতেই রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নতুন রাজ্যের অগ্রগতিতে সমস্ত রকমের কেন্দ্রীয় সহযোগিতা করা হবে জানিয়ে মোদী এদিন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট টুইটারে লিখেছেন, নতুন এক রাজ্য পেল দেশ! ২৯তম রাজ্য হিসেবে তেলেঙ্গানাকে স্বাগত জানাই। আগামী দিনে দেশের উন্নয়ন যাত্রায় শক্তি জোগাবে এই রাজ্য। নতুন রাজ্য গড়তে দীর্ঘ আন্দোলনের শরিক হয়েছিলেন যে সমস্ত মানুষ তাঁদের উদ্দেশে মোদী বলেন, আন্দোলনকারীদের সকলকে আমরা সম্মান জানাচ্ছি আজ।
তেলেঙ্গানা রাজ্যের আন্দোলন ১৯৬৯, ১৯৭২ এবং ২০০৯ সালে সংগঠিত হয়। ২০০৯ সালের ৯ ডিসেম্বর কংগ্রেস সরকার তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের ঘোষণা দেয়। এরপর অন্ধ্রপ্রদেশে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে। ২৩ ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। গত বছরের ১৩ জুলাই কংগ্রেসের ওয়াকিং কমিটি তেলেঙ্গানা রাজ্য পৃথক করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। গত ফেব্রুয়ারিতে অন্ধ্রপ্রদেশ পুনর্গঠন আইন-২০১৪ পার্লামেন্টে পাস হয়। অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি রাজ্য নিয়ে তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠিত হয়। এর আয়তন ১ লাখ ১৪ হাজার ৮শত বর্গকিলোমিটার। রাজ্যটিতে শতকরা ৭৬ ভাগ তেলেগু ভাষায় কথা বলে। হায়দ্রবাদ আগামী দশ বছর পর্যন্ত তেলেঙ্গানা এবং সীমান্ধ্রের রাজধানী হিসেবে ব্যবহূত হবে।
