কুমিল্লায় শহীদ নায়েক সুবেদার মিজানের দাফন সম্পন্ন

আপডেট : ০২ জুন ২০১৪, ২৩:১৭
মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে শহীদ নায়েক সুবেদার মো. মিজানুর রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গতকাল সোমবার কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভেলানগর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বিজিবির সদর দফতরে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মিজানের মরদেহ হেলিকপ্টারে কুমিল্লায় আনা হয়। মরদেহ বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের হেলিকপ্টারটি দুপুর ১টা ৫ মিনিটে কুমিল্লায় অবতরণ করে। এসময় মিজানের মরদেহ গ্রহণ করেন বিজিবি সরাইল অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিছুর রহমান। এসময় চান্দিনা ও দেবিদ্বারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার শোকার্ত মানুষ হেলিপ্যাড এলাকায় ভিড় জমায়। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে মিজানুর রহমানের মরদেহটি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় বিজিবির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিসুর রহমান, কুমিল্লা কোটবাড়িস্থ বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ জিল্লুল হক, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন। কফিন পৌঁছার খবরে মিজানের বৃদ্ধা মা, স্ত্রী-কন্যা, স্বজনসহ এলাকাবাসীর গগণবিদারী কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সেখানে উপস্থিত বিজিবি ও জেলা-উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও চোখের জল মুছতে দেখা যায়। গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে নিহতের বাড়ির পাশের ঈদগাহ ময়দানে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার এবং বিজিবির পক্ষ থেকে কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এসময় শোকাহত পরিবার ও এলাকাবাসীকে সান্ত্বনা দিয়ে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল মুন্সি। নিহতের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে এবং পরিবারকে সর্বাত্মক পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছে বিজিবি ও জেলা প্রশাসন। মিজানুর রহমানের দ্বিতীয় জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। নিহত মিজানের পুত্রসন্তান নেই। ৪ মেয়ের মধ্যে বড় ফাতেমা আক্তারের বিয়ে হয়েছে, দ্বিতীয় মেয়ে হালিমা আক্তার স্থানীয় ভৈষেরকোট দাখিল মাদ্রাসায় ৮ম শ্রেণিতে ও তৃতীয় মেয়ে শিমু ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। চতুর্থ মেয়ে হাবিবা আক্তারের বয়স ৪ বছর। ৪ কন্যা সন্তানের ভবিষ্যত্ নিয়ে এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন মিজানের স্ত্রী শামিমা আক্তার পারুল। গত বুধবার নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি ইউনিয়নের নবগঠিত পাইনছড়ি ক্যাম্পের ৩১ বিজিবির একটি টহল দলের ওপর মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) গুলিতে বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ’৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন তার পিতা ল্যান্স কর্পোরাল আবদুল হাফিজ।