এক সময় এই ফারুক আহমেদ, হাবিবুল বাশারদের বিপক্ষে মাঠে লড়েছেন। বলা ভালো, তাদের ব্যাটিংকে কঠিন কাজ করে তুলতেন এই হিথ স্ট্রিক। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেই ফারুক-হাবিবুলদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠলেন, পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ করলেন। কারণ বোঝা কঠিন কিছু না—গতকালই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বোলিং কোচ হিসাবে যাত্রা শুরু করলেন স্ট্রিক। আর যাত্রা শুরু করেই কথা দিলেন, তার কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন তরুণ পেসাররা।
গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করার ভেতর দিয়ে সাবেক জিম্বাবুইয়ান পেসার স্ট্রিক যাত্রা শুরু করলেন। সকালে বিসিবি অফিসে এসে বিসিবির নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজনের সাথে চুক্তির বিষয়টি পাকা করেন। এরপর মিরপুর একাডেমি ও শেরেবাংলার উইকেট সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেন। পরিচিত হন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদের সঙ্গে।
জাতীয় দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, ক্রিকেটার জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কিছু সময় বেল মজা করে কাটালেন। এরপরই স্ট্রিক মুখোমুখি হন সাংবাদিকদের সঙ্গে। শুরুতেই তরুণদের ব্যাপারটায় জোর দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ দলে কিছু তরুণ পেসার আছে। আমি তাদের উপর ভরসা করতে চাই। তরুণদের নিয়ে কাজটা দ্রুত শুরু করতে চাই।’
গতকাল তিনি মিরপুর আসবেন জেনে সংবাদকর্মীদের ভিড় ছিল সকাল থেকে। অবশ্য এতো সাংবাদিক দেখে একটুও অবাক হননি বললেন স্ট্রিক, ‘বাংলাদেশের মানুষের ক্রিকেটের আবেগ সম্পর্কে আমার ধারণা আছে। এখানে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটার এবং কোচ হিসাবে এসে সবকিছুই দেখেছি, জেনেছি। আমি বরং এতো সাংবাদিক, ক্যামেরাম্যানকে আশাই করেছিলাম।
বাংলাদেশ দলের বোলারদের মূল সমস্যার কথা বলতে গিয়ে এই জিম্বাবুয়ান বলেন, পেস সহায়ক উইকেট না থাকাটাই এখানকার পেসারদের কাজ কঠিন করে দিয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা দরকার। তাহলেই ভালো একটা মানে পৌঁছানো যাবে। বাংলাদেশের একটা বড় সমস্যা হলো উইকেট। বোলাররা এখানে যে উইকেটে খেলে অভ্যস্ত হয়, বাইরের দেশে গেলে সে রকম উইকেট পাওয়া যায় না। ফলে দেশের বাইরে বাংলাদেশ দলের বোলারদের জন্য কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হয়। এটা কাটিয়ে উঠাই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখানকার উইকেট ভালো দেখেছি। আশা করি সেরকমই উইকেট পাবো। আসলে এমন উইকেট দরকার যেখানে পেসাররা সাহায্য পাবে।’
জাতীয় দলের পাশাপাশিও বয়সভিত্তিক দলগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে জিম্বাবুয়ান সাবেক এই পেসারকে। এ প্রসঙ্গে হিথ স্ট্রিক বলেন, ‘তরুণদের নিয়ে আমি কাজ করবো। এটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। প্রধান কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহের সাথে কথা বলে পরিকল্পনা করবো। বিসিবি’র সাথে কথা বলে তরুণ বোলারদের বাইরের দেশে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠাতে চেষ্টা করবো। যাতে তারা অনেক বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। বাংলাদেশ দল নিয়ে নিজের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে দ্রুততম সময়ে কোন নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নির্ধারণ করা কঠিন কাজ। আমি ৮ থেকে ১০ জন পেসারকে আলাদা করে কাজ করতে চাই। বাংলাদেশের শক্তি হলো স্পিন বোলিংয়ে। সুতরাং পেসারদের এগিয়ে আনার জন্য দীর্ঘ সময় দরকার। আমরা সেভাবেই কাজ করবো। অভিজ্ঞতা তো শপিং মলে গিয়ে কিনে আনা যায় না। সুতরাং সময় দিতে হবে। সামনের বিশ্বকাপ, সেটি মাথায় রেখে বোলারদের নিয়ে কাজ করতে হবে। দলে কিছু তরুণ পেসার আছে। আমি তাদের উপর ভরসা করতে চাই। তরুণদের নিয়ে কাজটা দ্রুত শুরু করতে চাই। তরুণদের স্ট্রেংথ কন্ডিশনিং নিয়েও প্রচুর কাজ করতে হবে।’
বাংলাদেশের ভাষা নিয়ে কোন সমস্যা হবে কি? এমন প্রশ্নে দারুণ বাউন্স করেই যেন সামাল দিলেন স্ট্রিক, ‘দেখুন ক্রিকেটটাই একটা বৈশ্বিক ভাষা। এর পরিভাষা সব ক্রিকেটারই জানে। আমি মনে করি দলের মধ্যে আমার বার্তা ছড়িয়ে দিতে কোন সমস্যাই হবে না।’
সব মিলিয়ে বাংলাদেশে এই কাজ করার সুযোগটা স্ট্রিক বড় পাওয়া হিসাবে দেখছেন, ‘আমি মনে করি এটি একটি বড় সুযোগ। আমি দীর্ঘদিন বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছি। এশিয়ান দেশ হিসাবে বাংলাদেশে কাজের সুযোগটা আমার কাছে বিশেষ কিছু। এছাড়া বাংলাদেশ উদীয়মান ক্রিকেট দেশ। এখানে অনেক সম্ভাবনা আছে। সেইসাথে একজন স্পেশালিস্ট বোলিং কোচ হিসাবে আমার নিজের ক্যারিয়ার রেকর্ডের বিষয়টিও আছে।’
