সমালোচনায় ‘আহত’ মেসি

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৪, ২২:১২
ক্লাব পর্যায়ে তার অর্জনের কথা সবারই জানা। টানা চারবারের ফিফা-ব্যালন ডি-অর বিজয়ী তিনি। ইনজুরিতে মৌসুমের প্রায় অর্ধেকটা সময় মাঠের বাইরে না থাকলে হয়তো সর্বশেষ বর্ষসেরার খেতাবটা জুটতো তারই ঝুলিতে। বার্সেলোনাকে এখন সবাই চিনে সেই লিওনেল আন্দ্রেস মেসির নামে। অনেক প্রাপ্তির ক্যারিয়ারে মেসির জীবন বৃত্তান্তটা সাদামাটা একটা জায়গায় এসেছে। জাতীয় দলের হয়ে এক অলিম্পক স্বর্ণের কথা বাদ দিলে আর বড় কোন কিছুই জেতা হয়নি মেসির। মেসির দাপটে তেমন কোন বাধা ছাড়াই আসন্ন বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব পার করলেও ক্যারিয়ার জুড়েই মেসির জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে চলেছে তীব্র সমালোচনা। আর এই সমালোচনায় যথেষ্টই আহত হয়েছেন মেসি। স্প্যানিশ পত্রিকা মার্কাকে তিনি এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি সব কিছুই দেখেছি। তারা বলে আমার নাকি জাতীয় দলের প্রতি কোন ভালোবাসা নেই। আমি নাকি মন থেকে জাতীয় দলের হয়ে খেলি না। জার্সির প্রতি নাকি আমার কোন ভালোবাসা নেই। এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এসব বিষয়ে আমি মানসিক ভাবে অনেক আহত হয়েছি।’ বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড এরই মধ্যে জাতীয় দলের হয়ে খেলে ফেলেছেন ৮৩ টি ম্যাচ। এছাড়াও ২০০৬ ও ২০১০ সালে আর্জেন্টিনা দলের মূল অস্ত্রও ছিলেন তিনি। মেসি জানিয়েছেন, এমন সমালোচনায় তার খেলার উন্নতি তো দূরের কথা বরং কিছুটা ক্ষতিই হচ্ছে, ‘আর্জেন্টিনা আমার দেশ। এখানে আমার পরিবার থাকে। আমার কথা-বার্তা, চলা-ফেরা সবই আর্জেন্টাইন। দেশের মানুষকে খুশি করার জন্য সম্ভব হলে আমি আমার সব রেকর্ড বদলে ফেলতাম। সম্প্রতি স্প্যানিশ কয়েকটি গণমাধ্যম সংবাদ প্রচার করে যে, স্পেন জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চেয়েছিলেন মেসি। বার্সেলোনায় ক্যারিয়ার শুরু করার পর অনূর্ধ্ব ১৯ পর্যায়ে স্পেন দলও তাকে খেলাতে চেয়েছিল। সেই সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়ে মেসি বলেন, ‘হ্যা স্পেন দলের সাথে আমার এক ধরনের যোগাযোগ ছিল। কিন্তু সেটা মোটেই অফিসিয়াল কোন ব্যাপার ছিল না। আর তারা আমার সাথে যোগাযোগ করেছিল। ফলে আমি চাইলেই ওখানে খেলতে পারতাম। কিন্তু আমি সেটা করিনি। আমি সব সময় আর্জেন্টিনার হয়েই খেলতে চাইতাম। এটাই আমার দেশ। তাই আমি আর্জেন্টিনাকেই ভালোবাসি। এই দেশের জার্সির রংটাই আমি কেবল অনুভব করতে পারি।’ মেসি আরও বলেন, ‘আর্জেন্টিনার প্রয়োজনে আমি সবকিছু করতে রাজি আছি। দল আমাকে যেকোন অবস্থায় চাইলে আমি চলে আসতে রাজি আছি। খারাপ সময় কিংবা ভালো সময় সব সময়ই আমি আর্জেন্টিনার সাথে থাকতে চাই। আর্জেন্টিনায় জন্মেছিলাম বলেই আজ আমার এতো সম্মান। তাই দেশের ঋণ কখনও শোধ করা যাবে না। আমার দেশের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’ দেশের এই সম্মানের প্রতিদান হতে পারে আসন্ন বিশ্বকাপ জয়। একই সাথে এর মধ্য দিয়ে সকল সমালোচনার জবাবটাও বেশ বলিষ্ঠ ভাবে দেয়া হয়ে যাবে। মেসি প্রস্তুত তো?