এক মৌসুম আগে ঘটা করে স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে মোনাকোতে পাড়ি জমানোর সময়ও তাকে মনে করা হত বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারদের একজন। ক্লাব পর্যায়ে তার অবস্থান যাই থাকুক না কেন, বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন অধরাই থাকছে রাদামেল ফ্যালকাওয়ের। হাঁটুর লিগামেন্ট অস্ত্রপচারের ধকল কাটিয়ে উঠতে না পারায় বিশ্বকাপে জায়গা হয়নি এই কলম্বিয়ান তারকার।
ফ্যালকাও একা নন, বিশ্বকাপের ইনজুরির তালিকায় থেকে কপাল পুড়েছে আরও এক ঝাঁক তারকার। এইতো দুদিন আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুুতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে পায়ে ব্যথা পান ইতালিয়ান মিডফিল্ডার রিকার্ডো মন্টোলিভো। বিশ্বকাপে দেখা যাবে না তাকেও। একই দিনে ইকুয়েডরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন মাটিচাপা দেন মেক্সিকোর লুইস মন্টেশ। একই ভাবে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে নেদারল্যান্ড কোচ লুইস ফন গাল বাদ দিয়েছেন জার্মান ক্লাব হ্যামবুর্গের মিডফিল্ডার ফন ডার ভার্টকে।
মুদ্রার বিপরীত চিত্রও আছে। ইনজুরি নিয়ে সংশয় দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত উরুগুয়ের বিশ্বকাপ দলে ফিরে অনুশীলনও শুরু করেছেন লিভারপুলের হয়ে ৩১ টি গোল করা লুইস সুয়ারেজ। তাকে নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে দলের ডাক্তার আলবার্তো প্যান, ‘কোন রকম সমস্যা ছাড়াই সে অনুশীলন করেছে। তবে, ওর শারীরিক সকল প্রকার জটিলতার দ্রুত অবসান হওয়া জরুরি।’
সুয়ারেজকে নিয়ে একইরকম আশাবাদ জানিয়েছেন দলের বর্ষীয়ান স্ট্রাইকার ডিয়েগো ফোরলান, ‘ওর নিজের ইচ্ছশক্তি অনেক প্রবল। সবচেয়ে আশার ব্যাপার হল ও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। দলের সবাই ওকে অনুশীলন ক্যাম্পে পেয়ে বেশ আনন্দিত।’
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়েও কিছুটা শঙ্কা ছিল। গ্রিসের বিপক্ষে সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে উরুর ইনজুরি কারণে বেঞ্চে ছিলেন পর্তুগীজ তারকা। পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন (পিএফএফ) অবশ্য বিশ্বকাপে রোনালদোকে নিয়ে কোন শঙ্কা নেই বলেই জানিয়েছে। গত শনিবার রোনালদো ও পেপে দু’জনেরই এমআরআই স্ক্যান করা হয়। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তারা দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠছেন।
গত মৌসুমে ইনজুরির কারণে মাস দুই খেলতে না পারা লিওনেল মেসিকে নিয়ে অবশ্য নতুন কোন শঙ্কা নেই। ফিট থেকে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারও। তবে এদের যে কেউ যে কোন সময়ে নতুন করেও বিপদে পড়তে পারেন। কেননা ফুটবল এমনই।
