অবৈধ পথে যেসব স্বর্ণ আসে তার সিংহভাগই চোরাই পথে ভারতে পাচার হয়। বাংলাদেশ শুধু রুট হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছে স্বর্ণ চোরাচালানের অন্যতম হোতা নজরুল ইসলাম লিটন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সোমবার গভীর রাতে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর ও পল্টন এলাকা থেকে লিটনসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে। গতকাল তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন ইকরামুল হক পারভেজ, মিজানুর রহমান রিপন, আবুল হোসেন সুমন, অসীম কুমার সিংহ, আবদুল কাদের, আনিসুর রহমান, বাবুল পোদ্দার, আবদুল মান্নান ভুঁইয়া ও জাহিদুর রহমান। পুলিশ তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছে ৮ কেজি ওজনের ৭০ পিস স্বর্ণবার, বাংলাদেশি টাকাসহ ৪০ লাখ টাকা মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা, ৯টি পাসপোর্ট ও ১২টি মোবাইল সেট। এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম-কমিশনার ( গোয়েন্দা) মনিরুল ইসলাম বলেন, গত ২৭ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১০৫ কেজি ওজনের স্বর্ণসহ গ্রেফতার হয় চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য আনিছ উদ্দিন। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়। মামলার তদন্তকালে গ্রেফতারকৃতদের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, তারা গত কয়েক বছর ধরে এ ব্যবসা করছে। তাদের দলনেতা নজরুল ইসলাম লিটন দুবাই ও সিঙ্গাপুর থেকে সপ্তাহে গড়ে দুটি করে স্বর্ণের চালান পাঠাত। এসব স্বর্ণ একরামুল হক পারভেজের মাধ্যমে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পাচার হতো। পাচারের মূল বাজার ভারত।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম কমিশনার বলেন, বাংলাদেশে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে যে কয়েকটি চক্র জড়িত, তার মধ্যে অন্যতম নজরুল ইসলাম চক্র । এছাড়া আরো কিছু চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
তিনি বলেন, স্বর্ণ পাচারে বিমানবন্দর কেন্দ্রিক একটি চক্র রয়েছে। তারা অর্থের বিনিময় সহায়তা দিয়ে থাকে । তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ডিবি ডিসি (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ( লিটন ছাড়া) নয়জনকে সোমবার রাতে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার এড়াতে তারা মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। আর পরের দিন ( গতকাল) মূল হোতা লিটনের যাওয়ার কথা ছিল ব্যাংককে। ৯ জনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৫ লাখ টাকা ( টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা) ও ৯টি পাসপোর্ট । তাদের দেয়া তথ্য মতে একই দিন রাতে পল্টনের নিজের ফ্ল্যাট থেকে লিটনকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিছানার বালিশের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ৭০টি স্বর্ণবার, ৩ লাখ টাকা ও ৫ হাজার সৌদি রিয়াল।
মামলার তদারিক কর্মকর্তা এডিসি ( উত্তর) আব্দুল আহাদ ও এসি ( উত্তর) এস এম নাজমুল হক জানান, স্বর্ণ চোরাচালানের মূল হোতা নজরুল ইসলাম লিটনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল জানিয়েছে, গত ২০ বছর ধরে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে তাকে কখনও ধরা পড়তে হয়নি পুলিশের হাতে। সে নিজে সরাসরি দুবাই ও সিঙ্গাপুর থেকে স্বর্ণবার সংগ্রহ করে। এরপর সেখান থেকে তার নির্ধারিত লোকজনের (ক্যারিয়ার) মাধ্যমে তা ঢাকায় পাঠাতো। বিমান বন্দর থেকে এসব স্বর্ণবার বের করতে সহায়তা করত বিমানবন্দর কেন্দ্রিক একটি চক্র। তাদের নির্ধারিত অংকের টাকা দিতে হত। পরবর্তীতে অন্য একটি গ্রুপের মাধ্যমে এসব স্বর্ণবার সড়ক পথে ভারত পাচার হতো। তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতদেরকে চার দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পাশাপাশি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যাদের নাম পাওয়া গেছে তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
