নিরাপদ থাকুন সবসময়...

আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ১৯:৫৩

একজন নারী যে শারীরিকভাবে সুস্থ এবং গর্ভধারণে সক্ষম, তার অন্যতম চিহ্ন হলো নিয়মিত মাসিক বা পিরিয়ড। পিরিয়ডের দিনগুলো অন্য স্বাভাবিক দিনগুলোর চেয়ে একটু ভিন্ন রকম থাকে। তবে হরমোনের কারণে কিছু শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে। এই সময় মেয়েদের শরীর অন্য সময়ের তুলনায় একটু দুর্বল থাকে। অনেকের জরায়ু নিচের দিকে নেমে আসে, তলপেট স্ফিত হয়, ব্যথা করে, এমনকি বমিও হয়। কিছু কাজ রয়েছে, যা এই সময়ে করলে শরীরের অবস্থার আরো অবনতি হতে পারে। এ সময়ে করা যাবে না এমন কোনো কাজ যা শরীরের ক্ষতির কারণ হতে পারে। চলুন জেনে নিন আপনিও পিরিয়ডের ওই সময়টায় কিভাবে নিরাপদ থাকবেন—

 

যা যা করবেন না

উপুড় হয়ে শোয়া :অনেকেরই পেটে ভীষণ ব্যথা থাকে বলে পেটে চাপ দিয়ে শুয়ে থাকেন। উপুড় হয়ে শুয়ে থাকলে তা পেটে এমনভাবে চাপ ফেলে যে সেটা মোটেও ভালো নয়। এছাড়া এই সময় উপুড় হয়ে শুলে হার্ট রেটে তারতম্য হয়, রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয় এবং অক্সিজেন ঠিকমতো সরবরাহ হয় না বলে মাথা ঝিমঝিম বা ব্যথা করে।

ভারী জিনিস তোলা :নারীদের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যঙ্গ থাকে তাদের পেটে। যেমন জরায়ু বা ডিম্বাশয়। তাই খুব বেশি ভারী জিনিস টেনে তোলা নারীদের জন্য ভালো নয়। আর পিরিয়ডের সময় তো একেবারেই নয়।

ভারী ব্যায়াম :পিরিয়ডের সময় ভারী কোনো ব্যায়াম করা একেবারেই উচিত নয়। পিরিয়ডের সময় করার জন্য বিশেষ কিছু ব্যায়াম রয়েছে, সেগুলো করতে পারেন। যোগব্যায়ামের কিছু আসন পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে খুবই কাজে দেয়।

প্রাকৃতিক কাজ আটকে রাখা :এই বদভ্যাসটা অনেকেরই আছে। প্রস্রাব পেলে তা আটকে রাখা কখনোই উচিত নয়। এটি কিডনির ওপরে ভয়াবহ রকমের চাপ ফেলে। বারবার প্যাড পাল্টানোর ভয়ে অনেকেই পিরিয়ডের সময় প্রস্রাব চেপে রাখেন। এটি খুবই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এই সময়ে একাজ তলপেটের ওপর চাপ ফেলে এবং ব্যথা দীর্ঘসময় থাকে।

জোরে চিত্কার করা :পিরিয়ডের সময় রাগ, বিরক্তি, জেদ তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। রেগে গিয়ে জোরে চিত্কার চেঁচামেচি করা উচিত নয়। এর ফল হবে ভয়ানক। এটি সরাসরি তলপেটে চাপ ফেলে। কাউকে ডাকতে গিয়েও জোরে চিত্কার করা ঠিক নয়।  চিত্কার করতে শরীরের যেসব পেশীর ওপর জোর দিতে হয় তার মধ্যে পেটের পেশীও আছে।

পানি কম পান করা :ঘন ঘন প্রস্রাব লাগবে ভেবে অনেকেই এ সময় পানি কম খান। অথচ পিরিয়ডের সময়েই বেশি করে পানি খাওয়া উচিত। প্রচুর পরিমাণে পানি পান শরীরকে দুর্বল হওয়ার হাত থেকে বাঁচায়। এ ছাড়া রক্তের তারল্যের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যও এ সময় প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খাওয়া উচিত।

 

যা যা করবেন

বিশ্রাম নেওয়া :যদিও চাকরিজীবী নারীদের জন্য এটা সম্ভব হয় না সবসময়। তবে যদি সুযোগ থাকে তাহলে পিরিয়ডের প্রথম দিন অফিসে না যাওয়াই ভালো। আর যারা পড়াশোনা করছেন তাদের জরুরি ক্লাস বা পরীক্ষা না থাকলে সেদিন বাসায় রেস্ট নিন। এতে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে। বিশ্রাম থাকা মানে পূর্ন বিশ্রামে থাকুন। কথাবার্তা কম বলুন। দৈনন্দিন কাজ থেকেও বিশ্রাম নিন।

খাবারদাবার সচেতনতা :অবশ্যই চেষ্টা করুন ভালো খাবার খেতে। দুধ, ডিম এই জাতীয় খাবার খান। এছাড়াও ফ্রেশ ফুড অবশ্যই খাবেন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। আর নিয়মিত খাবারদাবার তো অবশ্যই খাবেন। যদিও এই সময়টায় খাবারের প্রতি কিছুটা অরুচি থাকে, তবুও খেতে হবে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন :অবশ্যই নিরাপদ প্যাড ব্যবহার করুন। কখনোই পুরনো কাপড় ব্যবহার করবেন না ন্যাপকিন হিসেবে। এটা খুবই অস্বাস্থ্যকর কাজ। প্রথম দিন ঘন ঘন প্যাড পরিবর্তন করুন। যতদূর সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন। বাজারে অনেক কোম্পানির স্যানিটারি ন্যাপকিন পাওয়া যায়। যেমন :স্টেসেফ, ফ্রিডম, সেনোরা প্রভৃতি।

মডেল শবনম