ঢালচর আশ্রয়ণ প্রকল্পে শিক্ষা ব্যবস্থা নাজুক

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৪, ২১:৩৬
চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচর ইউনিয়নের বর্ণালী আশ্রয়ণ প্রকল্পে আশ্রিত নতুন পুরাতন প্রায় ৪শ’ পরিবারের স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থা নাজুক পর্যায়ে রয়েছে। যে বয়সে বই খাতা নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা সে বয়সে বিদ্যালয়গামী শিশুরা নদীতে জাল বেয়ে বাবা কিংবা বড় ভাইর কাজে সহযোগিতা করে সংসারের অভাব-অনটন দূর করার চেষ্টা করছে। ঢালচরের ৫নং ব্যারাকের আঃ বারেক, নাজিম পাটওয়ারী, জাকির হোসেন ও রত্তন মাঝি বলেন, আমরা পেশায় জেলে। সরকার আমাগো থাকার ব্যবস্থা করলেও আমাগো ৩ শতাধিক ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না করায় বাসস্থান এলাকা থেকে বিদ্যালয় অনেক দূরে হওয়ায় লেখাপড়ার পরিবর্তে তারা আমাদের সাথে নদীতে মাছ ধরছে। বর্ণালী আবাসন প্রকল্প সংলগ্ন দক্ষিণ ঢালচর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা জরাজীর্ণ। নেই কোনো আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ। শিক্ষিত বেকার যুবক জসিম পাটওয়ারীর উদ্যোগে ৪ জন শিক্ষক নিয়ে ২০০০ সালে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু হলেও সরকারি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা না পাওয়ায় বর্তমানে অঘোষিতভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বিদ্যালয়টি। ফলে বিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত ২ শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অথচ চলতি বছরেও ৩ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিবেন বলে প্রধান শিক্ষক জসিম পাটওয়ারী জানিয়েছেন। এব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম পাটওয়ারীর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় বিদ্যালয়টি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানায়, দুর্গম জনবসতিপূর্ণ চর হওয়ায় চরে প্রয়োজন মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় এবং অভিভাবকদের দারিদ্র্যতার কারণে এ চরের শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।