কখনও বসে, কখনও দাঁড়িয়ে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বসে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য স্পিকারের অনুমতি নিতে প্রথমে ভুলে গিয়েছিলেন। শুরুতেই বসে বক্তব্য দেয়া শুরু করেন, কিছুক্ষণ পরে খেয়াল হওয়ায় নিজ থেকেই আবার দাঁড়িয়ে যান। পরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নিজ থেকেই অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বললেন ‘মাননীয় মন্ত্রী, আপনি চাইলে আপনার সুবিধা মতো.. বসেও বক্তব্য রাখতে পারেন।’ স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে মুহিত বললেন ‘আমি বসেই দেবো, তবে মাঝে-মধ্যে দাঁড়াবো’।
নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট পর, ৩টা ৩১ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী। উপস্থিত সবাই টেবিল চাপড়ে তাদের স্বাগত জানান। সাদা পায়জামা, ক্রীম রঙ্গের পাঞ্জাবির ওপর কালো মুজিব কোট পরিহিত ছিলেন মুহিত। সঙ্গে ছিল বাজেটের কাগজপত্র ভর্তি কালো ব্রিফকেস, তবে নিজের ব্যক্তিগত ব্যাগও ছিল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে। তার আসনের টেবিলে আগে থেকেই ফ্লাক্সে গরম চা ও খাবার পানি রাখা ছিল। ৩টা ৩৫ মিনিটে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন।
বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন উপলক্ষে গতকাল সংসদে সদস্যদের উপস্থিতিও ছিল অন্যদিনের তুলনায় বেশি। ছিল এক ধরনের উত্সাহ-উত্সব পরিবেশ। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদও তার গ্যালারিতে বসে অর্থমন্ত্রীর বাজেট উপস্থাপন দেখেছেন। ভিআইপি গ্যালারিগুলোও ছিল পরিপূর্ণ। ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত-কূটনীতিকরা। তিন বাহিনী প্রধান ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
বাজেট উপস্থাপন উপলক্ষে সংসদ ভবনসহ গোটা এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা। অর্থমন্ত্রীর বাজেট উপস্থাপনা পরিদর্শনের জন্য অধিবেশন কক্ষের ভেতরে বসানো হয়েছিল একাধিক মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর।
এবারও পাটের ব্যাগভর্তি বাজেটের বইপত্র আগে থেকেই সাজানো ছিল স্পিকারসহ সকল সংসদ সদস্যের টেবিলে। ব্যাগের কারণে ওপর থেকে অনেককে দেখাও যাচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল সবাই ‘ব্যাগের পুকুরে ডুবে আছেন’। কেউ কেউ অবশ্য নিজ উদ্যোগে টেবিল থেকে ব্যাগ নামিয়ে নিচে রাখেন।
সাংবাদিক লাউঞ্জে রাষ্ট্রপতি
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যখন বাজেট উপস্থাপন করছিলেন, তখন বিকালে সংসদ ভবনস্থ সাংবাদিক লাউঞ্জে আসেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ১০-১৫ মিনিট সেখানে অবস্থান করে তিনি সংসদের সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এখানকার সাংবাদিকদের প্রায় সবাই ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত সাবেক এই স্পিকারের, যার কারণে অনেকের নাম ধরেই খোঁজখবর নেন রাষ্ট্রপতি।
সাংবাদিক লাউঞ্জে কাজ করতে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা, এসি কাজ করে কিনা- সেই খবরও নেন তিনি। নিজে ভালো আছেন জানিয়ে বললেন ‘আমি তো বঙ্গভবনের বন্দিশালায়। রাস্তায় খুব কম বের হই। কারণ আমি বের হলে রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়, এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট হয়। এজন্য খুব বেশি প্রয়োজন না হলে বঙ্গভবনের বাইরে যাই না।’ যাওয়ার সময় স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় সাংবাদিকদের বলে গেলেন ‘আপনারা বঙ্গভবনে আইসেন’।
