বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। আর এই ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। প্রতি ৪ বছর অন্তর এই আসর নিয়মিত বসছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। শুধুমাত্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ এবং ১৯৪৬ এই ২টি বিশ্বকাপের আসর বসেনি। প্রত্যেক আসরেই কে হবে চ্যাম্পিয়ন—এই নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে থাকে টানটান উত্তেজনা। শুধু আমেরিকা, ইউরোপ কিংবা আফ্রিকা নয়, বরং ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা সারা বিশ্বের সাথে সাথে ছড়িয়ে যায় আমাদের দেশেও। এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৪ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে। এবার আসছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৪ শত টেকনোলোজি আর বিস্ময় নিয়ে!
গোল-লাইন প্রযুক্তি
এবারের বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো গোল-লাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিগত ফুটবল বিশ্বকাপে এই গোল-লাইন প্রযুক্তির অভাব ইংল্যান্ড ফুটবলপ্রেমীরা খুব ভালো মতো অনুভব করেছিল। কারণ জার্মানি ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় রেফারির ভুল সিদ্ধান্তে ইংল্যান্ডের একটি গোল বাতিল হয়ে যায়। অথচ ওই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বল জার্মানের গোল-লাইন অতিক্রম করে কিন্তু ব্যাপারটা খুব দ্রুত এবং অস্পষ্ট হওয়ার কারণে রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত দেয় এবং এই ঘটনার পর ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটারও গোল-লাইন প্রযুক্তি ব্যবহারের পক্ষে মত দেয়। (ভিডিও দেখেনিন রেফারির সেই ঐতিহাসিক ভুল সিদ্ধান্ত!) তবে এর আগে ২০১২ ক্লাব বিশ্বকাপ, ২০১৩ ক্লাব বিশ্বকাপ এবং ২০১৩ কনফেডারেশন্স কাপে এই গোল লাইন প্রযুক্তি ব্যবহার হয়। তবে এবারই প্রথমবারের মতো কোনো বিশ্বকাপ আসরে গোল-লাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এই গোল লাইন প্রযুক্তি এক ধরনের বিশেষ লেন্স এবং সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরি। এই গোল লাইন প্রযুক্তি আম্পায়ারকে বল গোলকির দাগ অতিক্রমের সাথে সাথেই অবগত করতে সক্ষম। ফলে ভুল হওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকছে না এবার!
ভ্যানিশিং স্প্রে
গোল লাইন প্রযুক্তির মতো এবারের বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো স্প্র্রে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। এটি এক প্রকার পানি দিয়ে তৈরি এক ধরনের স্প্রে যা ব্যবহারের এক মিনিটের মধ্যেই অদৃশ্য হয়ে যায়। খেলা চলাকালে প্রতিপক্ষ দলের জন্য ১০ গজের লাইন চিহ্নিত করতে এটি ব্যবহূত হবে। এছাড়া, ফ্রি-কিকের স্থান চিহ্নিত করতেও রেফারিরা এটি ব্যবহার করবেন। ফলে উক্ত স্থানসমূহ সাধারণ দর্শক এবং প্লেয়ারদের দৃষ্টির বাইরেই থাকবে।
